নতুন পাঠকের বই

জিমে গিয়ে শরীরচর্চায় যেমন শরীর সুগঠিত হয়, বই পড়ে চিন্তা করলে তেমনি মন সুগঠিত হয়। সুগঠিত মন অমূল্য সম্পদ, এটা দিয়ে বিশ্বজয় করে নেয়া যায়। এ কারণে আমি স্বপ্ন দেখি, আমাদের কিশোর তরুনেরাই শুধু নয়, যাঁরা এতদিন বই পড়েননি অনভ্যাসের কারণে তাঁরাও বই পড়া শুরু করবেন।
নিচের পছন্দগুলো আমার ব্যক্তিগত, কাজেই এর সাথে আপনার না মিললেও সমস্যা নেই। পাঁচ বছর বয়েস থেকে আজকের বত্রিশ বছর বয়েস পর্যন্ত বই পড়ার আমার যে অভিজ্ঞতা, এর আলোকে চেষ্টা করছি কিছু বলতে। চাইলে এভাবে বই পড়া শুরু করতে পারেন।
প্রথম পরামর্শ হচ্ছে-
READ ANYTHING- Just for five minutes a day.
আপনার যা পড়তে ভাল লাগে সেটাই পড়ুন, দিনে পাঁচ মিনিট করে হলেও পড়ুন, তাও অন্তত! পড়ুন, প্লিজ। হ্যাঁ, পাঁচ মিনিট প্রতিদিন কিন্তু একেবারে কম সময় নয়, এই সময়ে যে কোন একটা বিশ্ববিখ্যাত বইয়ের প্লট সিনোপসিস বা কাহিনীর সারমর্ম পড়ে ফেলা যায়। দৈনিক ইত্তেফাকে ছোটবেলায় টারজানের কমিক্স দিতো, প্রতিদিন সেগুলো কেটে জমিয়ে আঁঠা দিয়ে খাতায় সেঁটে কমিক বই বানাতাম সেই সময়ে।
হুমায়ূন আহমেদ এর নামে অনেক আঁতেল নাক সিঁটকান, আমি তাঁদের দলে নই। আম্মু বইমেলা থেকে তাঁর “বোতলভূত” বইটা সেই ছোটবেলায় এনে দিয়েছিলেন, ওটা দিয়েই আমার বই পড়ায় হাতেখড়ি। এরকম হাজার হাজার শিশু কিশোর হুমায়ূন আহমেদ পড়ে বই পড়ার অভ্যাসটা শুরু করে। আপনিও এরকম হালকা মেজাজের বই দিয়ে শুরু করতে পারেন।
আমার ফেসবুক প্রোফাইলে রিভিউ করা ভারী ভারী বইগুলো দেখে হতাশ হবেন না, এগুলোতে দাঁত বসাতে আমার সাতাশ বছর লেগেছে। আমি অতি নিম্নমানের মগজের মানুষ, তাই এতদিন লেগেছে- মোটামুটি মাঝারি মানের যে কেউ ছয় মাসের ভেতরেই একেবারে শূণ্য থেকে শুরু করে ভাল একটা পর্যায়ে চলে আসতে পারবেন। আর বছরখানেক প্রতিদিন আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা আনন্দ নিয়ে পড়লে তো কথাই নেই!
সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে শুরু করাটা। এর পর বাকিটা এমনিই পারবেন। মাত্র পাঁচ মিনিট, এটুকু করবেন না?
দ্বিতীয় পরামর্শ-
আপনি বই পড়েন দেখে নিজেকে যেমন সুপিরিয়র ভাবার কোন কারণ নেই, তেমনি আপনার বই পড়াকে বিদ্রুপ করা লোকজনকে সিরিয়াসলি নেয়াটাও অনাবশ্যক। বই হাতে দেখলেই একজাতীয় মানুষ আপনাকে “পন্ডিত, আঁতেল” ইত্যাদি বলে বিদ্রুপ করবে। পাত্তাই দেবেন না। অসমাপ্ত আত্মজীবনী হাতে আপনি ব্যস্ত আছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপচারিতায়, ধম্মপদ হাতে শুনছেন গৌতম বুদ্ধের উপদেশ, মসনভী হাতে নিয়ে কল্পনা করছেন জালালুদ্দিন রূমীর স্পিরিচুয়ালিটি- কে কি বলল এসবে কান দেবার কি দরকার? ওরা যখন বাজে গল্পে সময় নষ্ট করছে, আপনি তখন মগজে শান দিচ্ছেন। জীবনের লড়াইয়ে দুজন মুখোমুখি হলে কার পাল্লা ভারী হবে বলুন তো?
তৃতীয় পরামর্শ-
এবার কিছু নির্দিষ্ট বইয়ের নাম দিই, যেগুলো শুরু করার জন্য চমৎকার। সেবা অনুবাদে অপূর্ব সব বিশ্বসেরা বই সহজ ভাষায় পড়তে পারবেন। কিশোর ক্লাসিক, থ্রিলার কিংবা মাসুদ রানা- এক কাজীদা গত পঞ্চাশ বছর ধরে আমাদের আলো দিয়ে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে, একটা জাতিকে তিনি মগজে মননে উন্নত করে দিয়েছেন। একশটা একুশে পদকও কাজীদার কাজের স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট নয়। সেবার বই পড়ুন!
সেবা প্রকাশনীর আমার কিছু প্রিয় বই হচ্ছে অগ্নিপুরুষ (মাসুদ রানা) , আ টেল অফ টু সিটিজ ( কিশোর ক্লাসিক), বাউন্টিতে বিদ্রোহ, থ্রি কমরেডস, রবিন হুড (সেবা অনুবাদ)।
সেবা দিয়েই শুরু করুন না কেন?
ইংরেজি বই পড়তে চাইলে শুরু করুন পাউলো কোয়েলহোর দি আলকেমিস্ট বইটা দিয়ে। বানান করে ইংরেজি পড়তে পারে এমন মানুষও এ বই পড়ে বুঝতে পারবেন। বিদেশী ভাষায় প্রথম বইটা পড়াই সবচেয়ে কঠিন, যে কোন একটা বই পড়ে ফেললে যে সাহস হয় ওটা দিয়ে পরেরটা সহজেই পড়তে পারবেন। আমার সাজেস্ট করা পাঁচটা ইংরেজি বই হবে: দি আলকেমিস্ট, দি গডফাদার (মারিও পুজো), রেজ অফ এঞ্জেলস (সিডনি শেলডন) , দি ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড ( জ্যাক হিগিন্স) আর স্যাপিয়েন্স (ইউভাল নোয়া হারারি)। প্রথম চারটা ফিকশন, শেষটা নন ফিকশন।
বোনাস হিসেবে দুটো লাইফ ম্যানুয়ালের নাম দিই-
মেডিটেশনস (মারকাস অরেলিয়াস)
আর্ট অফ ওয়ার (সান জু)
আরেকটা চমৎকার বই হচ্ছে সোফি’স ওয়ার্ল্ড, একেবারেই সহজ ভাষায় দর্শনের মত জটিল বিষয় এ বইয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, যা আপনার চিন্তার জট খোলার জন্য যাদুর কাঠির কাজ করবে। প্রতিটা বই নীলক্ষেতে সস্তায় পাবেন। আব্রাহাম লিঙ্কনের কোলে সব সময় বই খোলা থাকত। মিটিং শেষ করে একজন বেরিয়ে আরেকজন ঢোকার ফাঁকে তিনি চোখ বুলিয়ে দুটো করে শব্দ পড়ে নিতেন। আমার মনে হয় আমার আপনার জীবন আর যাই হোক এই লোকের মত জটিল না!
শেষ করছি চীনা দার্শনিক লাও জু এর উক্তি দিয়ে-
A journey of thousand miles starts with one step.

Advertisements

স্কুল জীবনের ১০ টি সেরা বই

স্কুলজীবন প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জীবনে এক মূল্যবান সময়। কারণ দীর্ঘ স্কুলজীবনে চলার পথে অনেকের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি হয়,অনেক অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়। আবার তখন অফুরন্ত সময় থাকে অনেক ভালো কিছু করার। বই পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠে তখনই। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন থেকেই আমাদের বাসার কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আসতো। মূলত সেই সময় থেকেই নিয়মিত গল্পের বই পড়তাম। স্কুলে থাকার সময় কিছু বই মনের মাঝে দাগ কেটে রেখেছে। মনে হয়েছে, এগুলো না পড়লে অনেক কিছুই মিস করতাম। চলো জেনে নেই সেই বইগুলোর নাম!

১। আমি তপু, মুহম্মদ জাফর ইকবাল:

জাফর ইকবাল স্যার আমার অতি প্রিয় লেখকদের একজন। তাঁর দারুণ সব লেখার মধ্যে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে এই উপন্যাসটি।

কেন পড়বে:

এই গল্পটি কিশোর তপুকে নিয়ে লেখা। তার জীবনের খারাপ সময়ের বর্ণনা, নিঃসঙ্গতায় ছোট্ট ইঁদুরের সাথে গল্প-সব কিছু বিবেচনা করা হলে কিশোর বয়সে এত কষ্ট করা ছেলেটির জন্য চোখের কোণে পানি চলে আসে। আমারো এসেছিল, প্রথম যেদিন বইটি পড়ি। বারবার পড়েও এখনো সেই অনুভূতি কাজ করে।

২। নাট বল্টু, মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ

আমার পড়া সবচেয়ে মজাদার বইগুলোর একটি ছিল এটি । উপন্যাসটির অনেক ঘটনা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়!

কেন পড়বে:

ছোট এক শিশুর গল্প যে কিনা ব্যাঙ পকেটে নিয়ে ঘুমায়, নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করে, দেশের কাপড় ঘাটতি কমাতে মায়ের শাড়ি ১২ হাত থেকে ৬ হাত কেটে নেয়! একবার হলেও এই ক্ষুদে সায়েন্টিস্টের গল্পটি পড়ে ফেলো, সময় নষ্ট হবে না এটা নিশ্চিত!

৩। শঙ্খনীল কারাগার, হুমায়ূন আহমেদঃ

হুমায়ূন আহমেদ স্যার আমার খুব পছন্দের আরেকজন লেখক। লেখার জাদুতে আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করেন তিনি। আমার কাছে এই উপন্যাসটিই তাঁর সেরা লেখা বলে মনে হয়েছে।

কেন পড়বে:

প্রত্যহ জীবনের এক সামাজিক গল্প গড়ে উঠেছে খোকার পরিবারকে নিয়ে। যেখানে আছে প্রেম, ভালোবাসা, ভাই-বোনের মধ্যে মমত্ব। বাস্তবতা নিয়ে লেখা বইটি পড়লে সাধারণ একটি পরিবারের জীবন সম্পর্কে ধারণা হবে তোমার। মনে হবে তুমিও এই পরিবারের একটি অংশ, পরিবারের সুখ-দুঃখে আবেগ ছুঁয়ে যাবে তোমাকেও!

৪। রবীন্দ্র ছোটগল্পসমগ্র:

রবিঠাকুরের লেখা নিয়ে আর কি বলবো! প্রথমে সাধু ভাষা পড়তে একটু ভয় পেলেও যখন এই সমগ্র পড়ে ফেললাম, তখন বেশ ভালই লাগল।

কেন পড়বে:

রবীন্দ্রনাথের যে ক’টি ছোটগল্প রয়েছে তার প্রতিটিই আলাদা স্বাদের। সমাজের প্রতিনিয়ত ঘটনাগুলোকে তুলে এনেছেন লেখক তাঁর নিপুণ তুলির আঁচড়ে। তাই একবার পড়তে বসলে আর ওঠার ইচ্ছা হবে না!

৫। জুল ভার্ন সমগ্র:

জুল ভার্নকে প্রায়ই বলা হয় ‘Father of Science Fiction’। তাঁর লেখা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে বলা বিভিন্ন বাহন আর যন্ত্রের অনেকগুলোই সত্যি হয়েছে আধুনিক পৃথিবীতে, সাবমেরিন এর মধ্যে অন্যতম!

কেন পড়বে:

আমার মত অ্যাডভেঞ্চার আর সাথে একটুখানি বিজ্ঞানের ছোঁয়া পছন্দ যাদের, তাদের অবশ্যই জুল ভার্নের সবগুলো গল্প-উপন্যাস পড়ে ফেলা উচিত। সায়েন্স ফিকশন নিয়ে এমন স্বাদু লেখা খুব কম লেখকই লিখতে পেরেছেন!

৬।পথের দাবী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

বাংলা সাহিত্যে আমার আগ্রহ জন্মানোর শুরুর সময়টায় শরৎ ছিলেন আমার প্রথম পছন্দ।

কেন পড়বে:

কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা লেখাগুলোর একটি হলো পথের দাবী। বাংলা সাহিত্য ভালো লাগলে এটি একটি অবশ্য পাঠ্য। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিপ্লবী সব্যসাচী আর তাঁর বিপ্লবের দারুণ এক কাহিনী নিয়েই এই উপন্যাসটি।

৭। ১০০ মনীষীর জীবনী:

বিখ্যাত সব মনীষীদের গল্প আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার কাহিনী শুনে অবাক হই, তাঁদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি!

কেন পড়বে:

বিশ্বের মনীষীদের জীবনী পড়ে আমরা যেমন তাদের গুণগুলো জানতে পারি, তেমনি তাদের মত জীবন গঠনও করতে পারি। আত্মিক উন্নতি, চরিত্র গঠনের জন্য স্কুলজীবন উত্তম সময়, এজন্য এই বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।

৮। তিন গোয়েন্দা, রকিব হাসান:

ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে তিন গোয়েন্দার ভলিউম শেষ করে। একটা বই নিয়ে বসলে সময় কিভাবে ফুরিয়ে যেত, টেরও পেতাম না!

কেন পড়বে:

যারা রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করো তাদের জন্য তিন গোয়েন্দার বিকল্প নেই। কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড , মুসা আমানের সাথে বিচরণ করতে পারবে কল্পনার রাজ্যে-সেটিই বা কম কিসে?

৯। গালিভারস ট্রাভেল, জোনাথন সুইফট:

ছোটবেলায় বড় ভাইয়াদের দেখতাম কেউ একটু লম্বা হলেই তাকে ‘গালিভার’ ডাকতো, আর খাটো বন্ধুদের মজা করে ডাকতো ‘লিলিপুট’ বলে। একটু বড় হয়ে মজাদার এই বইটি পড়ে বুঝলাম আসল কাহিনী টা কী!

কেন পড়বে:

ছোট্ট লিলিপুটদের দেশে গালিভার নামের একজন মানুষকে নিয়ে এই কল্পিত গল্পটি। মজাদার সব কাহিনী আর গভীর চিন্তার মিশেলে এই উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে অনন্য!

১০। অলিভার টুইস্ট, চার্লস ডিকেন্স:

এটিকে অনায়াসে চার্লস ডিকেন্সের অন্যতম সেরা উপন্যাসগুলোর একটি বলা যায়। ছোট্টবেলায় জীবন সম্পর্কে ধারাপাত করতে এই বইটির বিকল্প ছিল না!

কেন পড়বে:

ছোটবেলায় বাবা-মা কে হারানো অলিভারকে নিয়ে লেখক অসামান্য এই লেখাটি লিখেছেন। এতিম অলিভারের পরিবার, তার বেড়ে ওঠা, কৈশোরকাল সব কিছুই ফুটিয়ে তুলেছেন এই হৃদয়স্পর্শী গল্পের মাধ্যমে!

এমনই আরো অনেক বই আছে যেগুলো পড়তে গেলে হৃদয়ে দাগ কেটে যায়, কোন কোনটি মনে জাগায় শিহরণ, আবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে হয় কিছু বই পড়লে! আবার হয়তো সেরকমই কিছু বইয়ের লিস্ট নিয়ে আসবো এখানে, সে পর্যন্ত সবাইকে বই পড়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি। বই পড়ো, নিজেকে জানো, আর আত্মশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাও মননশীলতার পথে!

সূত্র-১০ মিনিট স্কুল।।

ইনফার্নো-ড্যান ব্রাউন

ইনফার্নো_ড্যান ব্রাউন📚

ড্যান ব্রাউন মানেই রহস্য, শ্বাসরুদ্ধকর টান টান উত্তেজনা এবং রোমাঞ্চ। ইনফার্নোও তার বিকল্প নয়। ভিঞ্চি কোডের কথা তো সবের মনেই গাঁথা আছে। রবার্ট ল্যাংডনের কথা কি ভোলা যায়? ইনফার্নো হচ্ছে রবার্ট ল্যাংডনের সিরিজেরি চতুর্থতম বই। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। এবার নিউয়র্ক টাইমস বুক সেলিং রেকর্ড নাম্বার ওয়ান বই (ফিকশন ক্যাটাগরি)। বই প্রকাশের পর প্রথম ১১ সপ্তাহ টানা বেস্ট সেলিং বই ছিল ইনফার্নো। বোঝাই যাচ্ছে বইটা কেমন হতে পারে। ঠিক ভিঞ্চি কোডের মতই এই বইটির উপর ভিত্তি করে সিনেমাও তৈরী হয়, ২০১৬ সালে রিলিজ হয়। আমার মনে হয় সিনেমা দেখার আগে বইটা পড়ে নেয়া ভাল। সিনেমা এই বইয়ের ছায়া মাত্র। বইটির শুরুই এমন হার্ভাড প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডন উঠে দেখেন তিনি হাসপাতালে এবং বিগত কয়েকদিনের কোন স্মৃতি মনে করতে পারছেন না। শেষ মনে আছে তিনি হার্ভাড ক্যাম্পাসে হাঁটছিলেন , কিন্তু একটু পরই বুঝতে পারলেন তিনি এখন ফ্লোরেন্সে আছেন। এর মাঝে আবার একজন নারী আততায়ী ল্যাংডন এর পেছনে লেগেছেন। হাসপাতাল থেকে ল্যাংডন ও তার ডাক্তার সিয়েনা ব্রুকস নিরুপায় হয়ে পালিয়ে যান। এটা একটি অসাধারন রোমাঞ্চকর, থ্রিলিং কাহিনী। বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই বিটি পড়তে হবে। যারা সিম্বোলিজম ভালবাসেন, রহস্য ভালবাসেন তাদের জন্য ড্যান ব্রাউন বিশাল এক ভরসার জায়গা। আর দেরি না করে দীর্ঘ সময় নিয়ে বসুন, ইনফার্নো পড়া শুরু করে দিন।

বই-ইনফার্নো
লেখক-ড্যান ব্রাউন অনুবাদ- মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
ধরন- থ্রিলার
পৃষ্ঠা-৫২৮
মূল্য-৪৬০ প্রকাশনী- বাতিঘর

মার্কিন লেখক ড্যান ব্রাউন রচিত রহস্য ও রোমাঞ্চ উপন্যাস হলো “ইনফার্নো”। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। ইনফার্নো লেখকের সৃষ্ট চরিত্র রবার্ট ল্যাংডনকে নিয়ে চতুর্থ বই। ইতালীয় বিখ্যাত কবি দান্তের মহাকাব্য ‘দ্য ডিভাইন কমেডির একটা অংশ হলো “ইনফার্নো”। যার অর্থ ভূগর্ভস্থ জগত বা নরক। “আমি সেই ছায়া। বিচরণ করি বিষাদময় শহরে। আজন্ম বিষাদের মধ্য দিয়ে আমি ঘুরে বেড়াই সেখানে।” উপন্যাসের কাহিনীর শুরু ফ্লোরেন্স শহরে। সিম্বলজিস্ট রবার্ট ল্যাংডন জ্ঞান ফিরে নিজকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালে। নিজের আবাস স্থল আমেরিকা ছেড়ে সে কিভাবে এতোদূর ফ্লোরেন্স শহরের হাসপাতালে পৌছালো সেটা তার অজানা । জ্ঞান ফেরার পরই তার অনুভূত হয় প্রচন্ড মাথা ব্যাথা। জ্ঞান ফিরে পাবার আগে তার সাথে কি হয়েছিলো, কিভাবে সে এখানে এলো এসবের কোনো কিছু সম্পর্কেই তার কোন স্মৃতি নেই। সে মনেই করতে পারলো না কি করে কি হলো! ডাক্তাররা তাকে জানায়, সে সাময়িক এমনেশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে । স্মৃতিভ্রষ্ট ল্যাংডনের মাথায় তখন একটি শব্দই প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। তা হলো, ‘খুজলেই পাবে।’ খুজতে গিয়ে তার প্রিয় ঘড়ি মিকি মাউসটাকে পেলো না। তার বদলে জামার পকেটে পাওয়া যায় অদ্ভুত আর ভীতিকর একটি জিনিস। এটা কিভাবে তার কাছে এলো সে সম্পর্কেও সে কিছু জানে না। প্রচন্ড ব্যথায় তিনি বুঝতে পারলেন মাথায় কোন অপারেশান করা হয়েছে। কি হয়েছে, কেন হলো, কিভাবে হলো এর পিছনে কে বা কারা আছে এসব কিছুই যখন গুলিয়ে যাচ্ছে, গোঁদের উপর বিষফোড়ার মতো তার উপর হামলা চালায় আবারো। পরিস্থিতি থেকে পরিত্রানের জন্য ফোন করেন তার এসেম্বিতে। কিন্তু সেখান থেকেও সাহায্যের বদল আসে অন্য কিছু। এ অবস্থায় রবার্টের কাছে সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। এরপর ঘটতে থাকে একের পর পর এক আতঙ্কিত ঘটনা। এদিকে রবার্টের সাথে জড়িয়ে পড়ে এক মেয়ে চরিত্র। তারা একত্রে ছুটতে থাকে এ জীবন লড়াই-এ। একটু একটু করে যখন রহস্যের সমাধান করতে থাকে ঠিক তখন জানতে পারে ভয়াবহ এক তথ্য। বুঝতে পারে শুধু মাত্র তারাই নয়, তাদের সাথে পুরো মানবজাতির জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে। বর্তমান বিশ্বের প্রধান সমস্যা হলো জনসংখ্যার আধিক্য। পৃথিবীতে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা বর্ধিত হওয়ায়, সমস্যা তীব্র হচ্ছে। তার থেকে পরিত্রানের লক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে। উপন্যাসে এসবের বিবরণও এসেছে। কিন্তু রবার্ট রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে জানতে পারেন অদ্ভূত প্রযুক্তির কথা , যার মাধ্যমে মানব সম্প্রদায়ের অর্ধেকেরও বেশি কোন প্রকার রোগ, মৃত্যু ছাড়াই কমে যাবে। পরিস্থিতির এই ভয়াবহতা বুঝতে পরেই রবার্টের দৌড়ঝাপ শুরু হয়। সে দৌড়ঝাপে সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন প্রতিকুলতার । ড্যানব্রাউন প্রায়ই রবার্ট কে ফেলে দেন প্রতারনার ফাঁদে। এখানেও কি তেমনটাই হবে, নাকি ব্যতিক্রম কিছু! ড্যান ব্রাউন, কাহিনীর প্রয়োজন বা শুধু মাত্র ইতিহাস রচনার জন্য হলেও তার কাহিনীর বুনটে অনেকটা দখলদারী থাকে ইতিহাসের। ইনফার্নোতেও আছে তেমনি। বিখ্যাত দুইটা রাজ্যের নাম সহ ইনফার্নোর ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়েছে মানবসমাজের সংস্কৃতি এবং বাস্তব সমস্যাগুলো। উপন্যাসে মনীষি দান্তের বিখ্যাত কিছু উক্তি উল্ল্যেখিত হয়েছে। “যারা ক্রাইসিসের সময় ভালো এবং মন্দের মধ্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, নরকে তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে সবচেয়ে খারাপ স্থান”। ড্যান ব্রাউনের ইনফার্নো পাঠককে আরো একবার জড়িয়ে ফেলবে কোড, সিম্বল, ইতিহাস আর ঘূর্ণনের ষড়যন্ত্রের জালে। উপন্যাসে একজন সুন্দরী নারী চরিত্র আছেন রবার্টকে সাহায্য করার জন্য। কাহিনীর মোড়ে মোড়ে টুইস্ট এবং অনেক তথ্যবহুল উপন্যাস। লেখক প্রায় সময়েই পাঠককে বেশ কিছুটা ঘোরের মধ্যে রাখেন । ইনফার্নোও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। ড্যান ব্রাউনের অারেক গুন সব কিছুর বিশদ বিবরন। তবে তার জন্য অনেক কিছুর ইতিহাস জানতে পারা যায়। এক্ষেত্রেও লেখক কোন কৃপনতা করেন নি। গল্পের কাহিনীর প্রথম থেকই বেশ জমজমাট করতে পারলেও শেষ সময় বেশ কিছুটা হতাশ হতে হয়। বিষয় টা এমন, এতগুলোর পৃষ্ঠার বই পড়েও শেষে মনে হয় যেন, লেখক হুট করে লেখা থামিয়ে দিয়েছেন। নাজিম উদ্দীনের অনুবাদ বেশ ভালো মনে হয়েছে। বানান ভুল ছিলো কিছু।তা ছাড়া আর তেমন কোন সমস্যা হয়নি। উপন্যাসের প্রথম পাতা থেকে শুরু করে প্রতি পাতাতেই রহস্য বিরাজমান এর ফলে সম্পূর্ণ উপন্যাস ছিলো টানটান উত্তেজনার। আর লেখক সেটা বেশ সাবলীল ভাবেই শেষ পর্যন্ত টেনে গেছেন।

রেটিং-৪.৮/৫

http://www.rokomari.com

Sheikh Riad,

Admin,Boikhadok Academy.

আলো

আলো

আলো এক ধরণের শক্তি বা বাহ্যিক কারণ, যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়। আলো বস্তুকে দৃশ্যমান করে, কিন্তু এটি নিজে অদৃশ্য। আমরা আলোকে দেখতে পাই না, কিন্তু আলোকিত বস্তুকে দেখি। আলো এক ধরণের বিকীর্ণ শক্তি। এটি এক ধরণের তরঙ্গ। আলো তির্যক তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আকারে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে গমন করে। মাধ্যমভেদে আলোর বেগের পরিবর্তন হয়ে থাকে। আলোর বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের ব্যস্তানুপাতিক। শুন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩x১০৮ মিটার। কোন ভাবেই আলোর গতিকে স্পর্শ করা সম্ভব নয়। দৃশ্যমান আলো মূলত তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির ছোট একটি অংশ মাত্র। সাদা আলো সাতটি রঙের মিশ্রণ, প্রিজম এর দ্বারা আলোকে বিভিন্ন রঙে আলাদা করা যায়। যা আমরা রংধনুতে দেখতে পাই। আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরন, আপবর্তন, ব্যাতিচার হয়|
বিদ্যুৎচুম্বকীয় বর্নালির যে অংশ আমরা খালি চোখে দেখি তাকেই আমরা বলি আলো।আসলে বর্ণালির পুরো অংশই আলো।সেটা হতে পারে বেতার তরঙ্গ, গামা বা মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ।

আলোর প্রতিফলন;

আলো কোন স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোন মাধ্যমে বাধা পেলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে কিছু পরিমাণ আলো আগের মাধ্যমে ফিরে আসে, এ ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।

আলোর প্রতিফলনের সূত্র —
1) আপতিত রশ্মি , প্রতিফলিত রশ্মি ও আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে ।
2) আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান সর্বদা সমান হয় ।
আলোর প্রতিসরণ ;

বিভিন্ন ঘনত্বের দুইটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলো যদি তির্য়কভাবে আপাতিত হয়, তাহলে দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশের সময় রশ্মির দিক পরিবর্তিত হয়। এ দিক পরিবর্তন হওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

আলোর প্রতিসরণের সূত্র —
1) আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি ও আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে ।
2) দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের বিভেদতলে , নির্দিষ্ট বর্ণের আলোকরশ্মির প্রতিসরণে ,আপতন কোণের sine ও প্রতিসরণ কোণের sine এর অনুপাত (প্রতিসরাঙ্ক) সর্বদা সমান হয় ।
সুতরাং sin i / sin r = meu

আলোময় প্রাণী;

বায়োলুমিনিসেন্স একটা ঘটনা ছিল,যা ঘটত কিছু কিছু প্রাণী আলো তৈরি করার কারনে।এদের সবার বাস সমুদ্রে।তবে আমরাবেশি পরিচিত জোনাকির আলোর সাথে।জেলিফিস আর খোলসযুক্ত কাঁকড়াজাতীয় প্রাণী।এই প্রাণীদের ত্বকের একটি রঞ্জক পদার্থের সঙ্গে বাতাসের অক্সিজেনের বিক্রিয়ার ফলে জ্বলে এই আলো।কাজটি হয় লুসিফারেজ নামের একটি এনজাইমের প্রভাবে।

 

SHEIKH RIAD,

ADMIN,BOIKHADOK_ACADEMY

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তেল তত্ত্ব

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তেল তত্ত্ব ;

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তাঁর আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা।

তৈল বা স্নেহ

আমি তোমায় স্নেহ করি, তুমি আমায় স্নেহ কর অর্থাৎ আমরা পরস্পরকে তৈল দিয়া থাকি । স্নেহ কি? যাহা স্নিগ্ধ বা ঠান্ডা করে , তাহার নাম স্নেহ । তৈলের ন্যায় ঠাণ্ডা করিতে আর কিসে পারে ?

বাস্তবিক তৈল সর্বশক্তিমান। যাহা বলের অসাধ্য ,যাহা বিদ্যার অসাধ্য , যাহা ধনের অসাধ্য , যাহা কৌশলের অসাধ্য, তাহা কেবল তৈল দ্বারা সিদ্ধ হতে পারে ।

যে সর্বশক্তিময় তৈল ব্যবহার করিতে জানে ,সে সর্বশক্তিমান। তৈলের মহিমা অতি অপরূপ । তৈল নহিলে জগতের কোন কার্য সিদ্ধ হয় না ।
সর্বশক্তিমান তৈল নানারূপে পৃথিবী ব্যাপ্ত করিয়াছে ।

তৈলের যে মূর্তিতে আমরা গুরুজনকে স্নিগ্ধ করি ,তাহার নাম ভক্তি । যাহা দ্বারা গৃহিনীকে স্নিগ্ধ করি ,তাহা হল প্রণয় । যাহাতে প্রতিবেশীকে স্নিগ্ধ করি ,তাহা হল মৈত্রী । যাহা দ্বারা সমস্ত জগৎ কে স্নিগ্ধ করি , তাহার নাম শিষ্টাচার ও সৌজন্য ।
যাহা দ্বারা বড়লোকদের স্নিগ্ধ করি ,তাহার নাম নম্রতা ।যাহা দিয়ে অফিসার হতে কাজ আদায় করি , তাহার নাম ঘুষ ।

অনেকেই তৈল দিয়া তৈল বাহির করেন । বাংগালিদের বল নাই , বিক্রম নাই, বিদ্যা নাই , বু্দ্ধিও নাই । সুতরাং বাঙ্গালীর এক মাত্র ভরসা তৈল ।

(সংক্ষিপ্ত ও সম্পাদিত । Kamran H Raju,সিনিয়র এডমিন)

programming

প্রোগ্রমিং কি??

তোমরা জানো, কম্পিউটারকে মোটা দাগে দুইটা অংশে পৃথক করা হয়, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যার হচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আর সফটওয়্যার হচ্ছে সেসব যন্ত্রাংশ চালাবার জন্য লেখা নির্দিষ্ট সংকেত বা কোড। হার্ডওয়্যার কীভাবে কী করবে, সেটি নির্ধারণ করে সফটওয়্যার, যাকে আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রামও বলে থাকি। কম্পিউটার প্রোগ্রাম হচ্ছে এক বিশেষ ধরণের ভাষায় লেখা সংকেত, যেগুলো সাজানো থাকে এমনভাবে যাতে করে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সহজেই বুঝতে পারে তাকে ঠিক কোন কাজটা কীভাবে করতে হবে। পৃথিবীতে মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের জন্য যেমন অনেক ভাষা আছে, তেমনি কম্পিউটারের জগতেও অনেক ভাষা আছে, যেগুলোকে বলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেমন: c,c++, Java, Phython, php ইত্যাদি। এসব ভাষার কোনো একটি বেছে নিয়ে সেই ভাষার নিয়মকানুন মেনে ঠিকমতো কোড লিখলে তৈরি হয়ে যাবে কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার। তবে ভাষার নিয়মকানুন ঠিক রেখে শুধু কোড লিখে গেলেই সেটি প্রোগ্রাম হবে না, যেমনটি বাংলা ভাষায় নিয়মকানুন মেনে হাবিজাবি লিখলেই সেটি কবিতা হবে না। হ্যাঁ, কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে ভালো হতে হলে কবিদের মতো সৃজনশীল হওয়া চাই। সাথে অবশ্য আরেকটি জিনিস চাই- যুক্তি বা লজিক।

প্রোগ্রামারের কাজ কী???

প্রোগ্রামারের কাজ হচ্ছে প্রোগ্রাম লেখা। প্রোগ্রামগুলো বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার হতে পারে। যেমন, গেমস, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সাধারণ কোনো ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের মতো বিশাল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন, কম্পিউটার ভাইরাস, অপারেটিং সিস্টেম বা পরীক্ষার রুটিন তৈরি করার মতো সফটওয়্যার। দুনিয়ায় যে কত রকমের সফটওয়্যার আর কত কাজে যে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। প্রোগ্রামাররা নিত্য নতুন সফটওয়্যার তৈরি করে চলেছেন। এত এত সফটওয়্যার, তাহলে পৃথিবীর সব সফটওয়্যার তো বানানো হয়ে যাবে একদিন, এমন ভাবনা কি তোমার মনে আসছে? মানুষ তো কত শত বছর ধরে গান গাইছে-লিখছে। তাই বলে কি পৃথিবীর সব গান লেখা হয়ে গেছে?

প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার….

বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠানে কমবেশি কাজের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ প্রোগ্রামার কাজ করতে চায় সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠানে। একজন ভালো প্রোগ্রামারের জন্য দেশে-বিদেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে ঢের। দেশের সীমারেখা কখনও কাজের প্রতি বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রতি বছরই বাংলাদেশের শীর্ষ কয়েকজন প্রোগ্রামার চাকরি নিয়ে চলে যাচ্ছে গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া দেশের ভেতরেও কাজের সুযোগ ক্রমাগতই বাড়ছে। একজন ভালো প্রোগ্রামারের কাছে প্রোগ্রামিং হচ্ছে নেশার মতো। নেশাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সৌভাগ্য পৃথিবীর খুব কম সংখ্যক মানুষ লাভ করে, আর সেই স্বল্পসংখ্যক মানুষদের মধ্যে প্রোগ্রামাররা অন্যতম।

উচ্চশিক্ষায় প্রোগ্রামিং….

এ তো গেলো সেসব মানুষের কথা যারা প্রোগ্রামিংকে পেশা হিসেবে নেবে। কিন্তু তোমরা সবাই নিশ্চয়ই বড় হয়ে প্রোগ্রামার হবে না। বাংলাদেশের সব ছেলেমেয়ে প্রোগ্রামিং করা শুরু করলে আর সব কাজ করবে কে? হ্যাঁ, তোমরা এখন কিশোর, আর কবছর পরেই হয়ত তোমাদের অনেকেই পা দেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর তখনই তোমরা ঠিক করে নেবে তোমাদের ভবিষ্যত। তবে তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে চাও, তাহলে তোমার প্রোগ্রামিং কিন্তু জানাই লাগবে। গণিত-বিজ্ঞানের নানান বিষয়, এমনকি বায়োলজি নিয়ে লেখাপড়া করতেও প্রোগ্রামিং দক্ষতা কাজে লাগে। কম্পিউটারে কোড লিখে হরেক রকম সমস্যার সমাধান করতে হয়। তবে প্রোগ্রামিং কেবল বিজ্ঞান কিংবা প্রকৌশলের ছাত্র-ছাত্রীদেরই কাজে লাগে এমনটি নয়, অন্য অনেকেরও কাজে আসে। তাই তো এখন পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্কুল থেকেই প্রোগ্রামিং শেখার শুরু হয়। প্রোগ্রামিং তোমাকে অন্যভাবে চিন্তা করতে শেখাবে, সমস্যার বিশ্লেষন ও সমাধান করার নতুন নতুন উপায় বাতলে দেবে। প্রোগ্রামিংয়ের চর্চা তোমার মস্তিষ্ককে সাহায্য করবে যেকোনো বড় সমস্যাকে ভয় না পেয়ে সেটিকে ছোট ছোট করে সমাধান করতে। তাই আধুনিক বিশ্বের বিশ্বনাগরিক হতে গেলে প্রোগ্রামিংটা কিন্তু জানা চাই।

প্রোগ্রামিং কিভাবে শিখব…
.
তোমরা যারা গান শেখো, তারা যেমন নিয়মিত গানের চর্চা করো, প্রোগ্রামিংয়ের বেলাতেও তেমনি চর্চা করতে হয়। নিয়মিত লেখাপড়া আর চর্চার মাধ্যমেই তুমি হয়ে উঠতে পারবে একজন দক্ষ প্রোগ্রামিং শিল্পী। প্রোগ্রামিং শেখার জন্য শুরুতে প্রয়োজন একটি বই, যা তোমাকে প্রোগ্রামিংয়ের শুরুটা দেখিয়ে দেবে, প্রয়োজন একটি কম্পিউটার, সাথে ইন্টারনেট থাকলে ভালো হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সপ্তাহে গড়ে দশ-বারো ঘণ্টার মতো সময়। অবশ্যই পরীক্ষা চলাকালীন সময়টা ছাড়া। প্রোগ্রামিংয়ের বই কোথায় পাবে? দেশের বড় শহরগুলোর বইয়ের দোকানে প্রোগ্রামিংয়ের বই পাওয়া যায়, তবে সেগুলো বেশিরভাগই ইংরেজিতে। ইংরেজি বই পড়া অবশ্য তেমন কঠিন কোনো ব্যাপার নয়, একটু সাহস করে শুরু করে দিলেই হয়। আর বাংলা বই পড়তে চাইলে তোমরা http://codeforwin.comওয়েবসাইটে ঢুঁ মারতে পারো।

প্রোগ্রামিং শেখার অনলাইন স্কুল….

ছেলেবেলায় গান শেখার জন্য গানের স্কুল থাকে, নাচ শেখার জন্য নাচের স্কুল। ক্রিকেট খেলা শেখার জন্য ক্রিকেট একাডেমি। কী চমৎকারই না হতো বাংলাদেশে যদি প্রোগ্রামিং শেখার জন্য কোনো প্রোগ্রামিং স্কুল থাকতো! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কী, খুব ভালো প্রোগ্রামার না হলে অন্যকে প্রোগ্রামিং শেখানো যায় না। আর আমাদের দেশে খুব ভালো প্রোগ্রামাররা অনেক ব্যস্ত থাকেন বলে প্রোগ্রামিং শেখানোর বিষয়টি তাঁরা ভাবেন না। এই সমস্যার একটি সমাধান অবশ্য বের হয়েছে। প্রোগ্রামিং ও অন্যান্য বিষয় শেখার কিছু ওয়েবসাইট আছে, যেখানে অনলাইন কোর্স করা যায়। বেশিরভাগ কোর্সই বিনামূল্যে করা যায়। এরকম ওয়েবসাইগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে coursera.org, edx.org ও udacity.com। তবে বাংলা ভাষায়ও প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ডেভেলাপমেন্ট, ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলাপমেন্ট শেখার জন্য অনলাইনে ভিডিও ও কোর্স পাওয়া যায়। এরকম একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল : http://dimikcomputing.com। এর কোর্সগুলো ফ্রি কিন্তু তার জন্য তোমাদের থাকা চাই উচ্চ গতির ইন্টারনেট। আশার কথা এই যে, আমাদের দেশে ইন্টারনেট দিন দিন সহজলভ্য হচ্ছে। আর প্রতিটি কোর্স শেষেই ডিভিডি বের করছে দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল (ফেসবুক পেজ : https://www.facebook.com/DimikComputing), যাতে করে যাদের ভালো ইন্টারনেট নেই, তারা ডিভিডি থেকে ভিডিও লেকচার দেখে শিখতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেটে নানান ফোরাম ও ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে, যেখানে তুমি যোগ দিতে পারো ও প্রোগ্রামিং নিয়ে আলাপ করতে পারো।

অনলাইন জাজ…..
প্রোগ্রামিং শেখার শুরুটা তো হলো। চর্চাটা হবে কীভাবে? ইন্টারনেটে হাজার হাজার প্রোগ্রামিং সমস্যা পাওয়া যায়, যেগুলো সমাধান করে তোমার প্রোগ্রাম সেখানে জমা দিলে তুমি কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারবে যে তোমার সমাধানটি সঠিক হয়েছে কী না। website টি হল-www.urionlinejudgement.org। একটি চমৎকার অনলাইন জাজ যেখানে তুমি প্রোগ্রামিং চর্চা শুরু করতে পারো। আর বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং সমস্যা পেতে চাইলে তোমাদের যেতে হবে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বইয়ের ওয়েবসাইটে। এই লেখাটি পড়তে পার : প্রোগ্রামিং চর্চার জন্য ১০টি অনলাইন জাজ।

ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড….

প্রোগ্রামিং প্রাকটিস করতে করতে তো ঝানু হয়ে গেলে। কিন্তু তোমার মেধাটা দেখাবে কোথায়? তোমার জন্য রয়েছে ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড। বাংলাদেশে প্রতি বছর ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় যেখানে স্কুল ও কলেজ পর্য়ায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারে। সেখান থেকে বিজয়ীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ ট্রেনিং ক্যাম্পের এবং সেই ক্যাম্প থেকে কয়েকজনকে নির্বাচিত করে পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে। বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে যারা ভালো করে, তাদের ভর্তি করাতে বেশ আগ্রহী হয়। সুখবর হচ্ছে, বাংলাদেশেও এমনটি চালু হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। যারা আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে, তাদের কোনো ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না। এইচএসসি পাশের পরে তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিষয়ে ভর্তি হতে পারবে। বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের খোঁজখবর পেতে হলে ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে, সেখানে যোগ দিতে হবে। গ্রুপের ঠিকানা বের করার দায়িত্ব আমি তোমাদের উপর ছেড়ে দিলাম। ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড নিয়ে আরো জানতে এখানে ক্লিক করো।

চর্চা করার আরো কিছু উপায়….

কিন্তু প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হচ্ছে অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে একটি, যার মাধ্যমে তুমি তোমার প্রোগ্রামিং দক্ষতা বাড়াতে পার। এর মানে এই না যে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে তুমি ভালো প্রোগ্রামার হতে পারবে না। তুমি হয়ত মজার কোনো গেম বানানোর চেষ্টা করতে পারো, কিংবা একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। আর তুমি যদি স্মার্টফোন ব্যবহার করো, তাহলে তোমার ফোনের জন্যও একটি অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে ফেলতে পার।

কম্পিউটার সায়েন্স…..

এইচএসসি তো পাশ করে ফেললে। প্রোগ্রামিংয়ে ওস্তাদ হয়ে গিয়েছো। এখন তুমি তোমার পছন্দমতো বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার চেষ্টা করবে। আর যদি তুমি প্রোগ্রামিংকে খুব গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলো তাহলে তোমার উচিত হবে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া। সেখানে প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞান সম্পর্কে তোমার জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়বে। তবে এখানে বলে রাখি কম্পিউটার সায়েন্স মানেই শুধু প্রোগ্রামিং নয়। আরো নানান বিষয় পড়তে হয় সেখানে। তুমি কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয়ে কেবল প্রোগ্রামিং করবে আর অন্য বিষয়গুলো পড়বে না, তা হবে না, তা হবে না।

এখনই সময় শুরু করার…..

আমি ছোট, আমি কি প্রোগ্রামিং শিখতে পারব? বিল গেটসের নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানী মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৩ বছর বয়সে বিল গেটস তাঁর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেন, যেটি ছিল টিক-ট্যাক-টো গেম। তারপর তিনি যেই স্কুলে পড়তেন, সেখানে ক্লাস শিডিউল তৈরির সফটওয়্যারও বানিয়ে দেন। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও স্কুলে পড়ার সময় প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করেন। প্রথমে তাঁর বাবাই ছিলেন তাঁর প্রোগ্রামিং শিক্ষক। স্কুলে যখন তাঁর বন্ধুরা গেম খেলতে ব্যস্ত, সেই সময়টা জাকারবার্গ ব্যস্ত থাকতেন গেম বানানোর কাজে! এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে, আমি কেবল তোমাদের পরিচিত দুজন মানুষের কথা বললাম। বিল গেটস যদি সফটওয়্যার তৈরি করেই পৃথিবীর সেরা ধনী হতে পারে, মার্ক জাকারবার্গ যদি ফেসবুক তৈরি করে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করতে পারে, স্টিভ জবস যদি আইফোন তৈরি করে সারা পৃথিবীর মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে, তুমি কেন পারবে না? তোমাদের এখন কাজ হবে বাবা-মাকে বুঝিয়-সুঝিয়ে তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি বের করা যেন তুমি সপ্তাহে ১০-১২ ঘণ্টা প্রোগ্রামিং করতে পারো। তাহলে আর তোমাকে ঠেকায় এমন সাধ্য কার?

তোমাদের জন্য গুরুত্বপূ্র্ণ দশটি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক :

http://scratch.mit.edu
http://code.org
http://edx.org
http://coursera.org
http://udacity.com
http://dimikcomputing.com
http://programabad.com
http://dimik.pub
http://cpbook.subeen.com
http://www.khanacademy.org

শয়তানের মৌল ফসফরাস

শয়তানের মৌল ফসফরাস

ফসফরাস আবিষ্কৃত মৌলগুলোর মধ্যে ১৫ তম। একারনে এবং বিস্ফোরক, বিষ ও নার্ভ এজেন্ট তৈরিতে এটি ব্যবহারের কারনে একে প্রায়ই শয়তানের মৌল নামে ডাকা হয়। ফসফরাস আবিস্কারের কৃতিত্ব জার্মান আলকেমিস্ট হেনিগ ব্রান্ডকে দেয়া হয় যিনি ১৬৬৯ সালে এটি আবিস্কার করেন, যদিও অন্যান্য কেমিস্টরাও কাছাকাছি সময়ে হয়ত ফসফরাস আবিস্কার করে থাকতে পারেন। ব্রান্ড মূত্র নিয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন যাতে বেশ কিছু পরিমান দ্রবীভুত বিপাকীয় ফসফেট ছিল। হামবুর্গে কাজ করার সময়, ব্রান্ড মুত্রকে পাতন করে কিছু লবন তৈরির মাধ্যমে পৌরানিক কাহিনীর ফিলসফার স্টোন তৈরির চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু পরিবর্তে এমন একটি পদার্থ পেলেন যা অন্ধকারে জ্বলে আর চমৎকার ভাবে পোড়ে। এই পদার্থের নাম দেয়া হল ফসফরাস মিরাবিলিস বা অলৌকিক আলোর ধারক।

ফসফরাস খুবই সক্রিয় মৌল তাই প্রক্ তিতে এটিকে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না ফসফরাসের তিনটি উত্‍স হল।।। ১।ফসফরাইট ২। ফ্লোর এপাটাইট ৩। ক্লোর এপাটাইট

ঘর্ষন দিয়াশলাই প্রস্তুতিতে শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধকালে ধুম্রজাল, হাতবোমা ও আগুনে বোমা তৈরীতে শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করা হয় ফসফর ব্রোন্জ নামক সংকর ধাতু ও কীটনাশক তৈরীতে ফসফরাস ব্যবহার করা হয়।ফসফরাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর,এটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রহন করলে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষটি কয়েকদিনের মধ্যে মারা যায়।

FB_IMG_1504933973209.jpg

#নোবেল_পর্ব২০১৭ ২০১৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী। জেফরি সি হল, মাইকেল রসবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং। . শরীরের প্রতিদিনের ছন্দ আবিষ্কারের জন্য এ বছর তারা এ পুরস্কার জিতলেন। পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী জেফরি সি হল ইউনিভার্সিটি অব মাইনের শিক্ষকতায় নিয়োজিত। এছাড়া মাইকেল রসবাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং ব্রান্ডেইস ইউনিভার্সিটির শিক্ষকতা করছেন। .

বিশ্বের_সর্বাধিক_বিক্রিত_পঠিত_১০টি_বই

#বিশ্বের_সর্বাধিক_বিক্রিত_পঠিত_১০টি_বই

০১. মহাগ্রন্থ আল কোরআন:

ভাষা আরবি, ২৩ বছর ধরে আল্লাহ তায়ালার বানী সম্বলিত এই গ্রন্থ আল্লাহ তাআলার ফেরেশতা জীবরাইল(আ) পৃথিবীতে বহন করে এনেছেন, মহান আল্লাাহ তাআলার পক্ষ থেকে শেষনবী হযরত মোহাম্মদ (স) এর উপরঅবতীর্ণ হয় এই গ্রন্থ। এটা মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ হলেও কোরআনের নিজস্ব ভাষ্যমতে এটা সমগ্রমানবজাতির জন্য একটি গাইড হিসেবে প্রেরিত। প্রথম মুদ্রিত প্রকাশ ১৭২০ সাল, হামবুর্গ।পবিত্র কোরআনের আরবি ভার্সনটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী বিক্রিত গ্রন্থ। কারণ পৃথিবীর সব দেশেরমুসলিমরা এই গ্রন্থ আরবি ভাষায় পাঠ করে থাকে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ হাজার পেশাদার ও অপেশাদারপ্রকাশক এটি প্রকাশ করে থাকে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা থেকে প্রায় ২ কোটি এবংবিক্রয় ১ কোটি ৫ লাখ ছেড়ে যায়। বাকী কপি বিভিন্ন দেশে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। অনুবাদিতকোরআনসহ হিসেব করলে এই সংখ্যা ২ কোটি ৫ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। ১৭৮৭ সালে রাশিয়ার সেন্টপিটাসবার্গ শহরে মাওলানা ওসমানের এই কোরআন মুদ্রণ ছাপার পর থেকে হিসেব করলে গত আড়াইশ বছরবা সাত প্রজন্মে এর একটা আনুমানিক সংখ্যা দাড়াবে ১৫শ কোটি এর মতো। এই হিসাবঅনুবাদিত কোরআন এবং হাতে লেখা কোরআন ছাড়া। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বিচ্চিন্ন ভাবেবিক্রি করার কারণে ইউকিপিডিয়া বা অন্য কোথাও এর কোনো সঠিক হিসেব নেই।

০২. বাইবেল: ইংরেজী:

ইতিহাস থেকে জানা যায় খোদাইকৃত বাইবেল প্রথম মুদ্রিত প্রকাশ ১৪৫০ সালে । যদিও তা পুরোঅংশ ছিলো না। মুদ্রণ যন্ত্র আবিস্কারের আগে ছাপ দেয়া বইবেল ২০,৩০,৪০ এরকম আংশিক পৃষ্ঠা আকারেছাপা হয়। বর্তমান বিশ্বে বিক্রয় সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থবাইবেল এর ইংরেজী অনুবাদ। ইসলাম ধর্মে একে বলা হয় ইনজিল কিতাব। কোরআন অনুসারে এটিআল্লাহর নবী ঈসা মাসীহ (আ) এর উপর নাযিল হয়। যদিও ছাপা ও বিতরনের দিক থেকে এটি কোরআনেরচেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশী হবে। কিন্তু সারা বিশ্বে এটি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় বিধায় বিক্রিরসংখ্যা কোরআন এর চেয়ে কম। এটিও উইকিপিডিয়া বা গিনেজবুকের হিসেবে নেই। তবে সাধারণতবিভিন্নভাবে বিভিন্ন পাবলিশারদের বাইবেল বিক্রির সংখ্যা বছরে কোটি এর মতো এবং সর্বমোটছাপা ৪কোটি ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি বা তারও বেশী হতে পারে। এ যাবত প্রকাশিত বাইবেলের সংখ্যাদাড়াবে ৫০ হাজার মিলিয়ন কপি।

০৩. শ্রীমৎভগবত গীতা:

সর্বাধিক বিক্রিত গ্রন্থ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীমৎভগবত গীতা, হিন্দু ধর্মে বেদ ওমহাভারত নামে আরো ধর্মগ্রন্থ থাকলেও সবচেয়ে বেশী পঠিত গ্রন্থ গীতা। গীতার ক্ষেত্রেও একই কথাপ্রযোজ্য। তবে সংখ্যার বিষয়ে গীতার বেলায় মহানবী (স) এর জীবনীগ্রন্থের মতো বিভিন্ন ভাষায়মুদ্রিত হিসেবকে অর্ন্তভ’ক্ত করে বলা যায় বছরে বিশ্বজুড়ে ৩০ লাখ গীতা বিক্রয় হয়। ভারতের কয়েকশ ভাষায়এটি ১৮০ কোটির বেশী গীতা প্রকাশিত হয়েছে বলে একটা খসড়া হিসেব করা যেতে পারে। এই হিসেবঅবশ্যই গত ৩শ বছরের অর্থাৎ মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ার পরের।

০৪. বোখারী শরীফ:

ইমাম বোখারীর এই অনন্য সংকলন মুসলমানদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। হাদীসগ্রন্থের মধ্যে ৬টিবিখ্যাত গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোকে বিভিন্ন বিচারে সঠিক ও নির্ভুল বলে গন্য করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়েবেশী বিক্রি হয় প্রথম হাদীস গ্রন্থ সহীহুল বোখারী। কোনো মুসলিম যদি হাদীসের একটি বইকিনেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় সেটা হয় বোখারী শরীফ। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ইসলামিকবুকশপে টপচার্ট দেখলে এই কথার সত্যতা পাওয়া যাবে। এই সময়ে আনুমানিক বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়মিলিয়ে এই বইয়ে বছরপ্রতি বিক্রির সংখ্যা ২০ লাখের মতো এবং এ যাবত বিক্রির সংখ্যা ৫০ কোটি এরবেশী হবে।

( প্রথম চারটি বইয়ের হিসেব ইসলামী প্রকাশনা ও বুখশপের হিসেব থেকে বিশ্লেষণপূর্বক নির্নয় করা হয়েছে। যে কেউ এ ব্যাপারে একমত হবেন এমনটা আশা করার কারণ নেই, আমার নির্নীত সংখ্যার একটা খসড়া হিসেবে এবং ব্যাখ্যা আমার কাছে রয়েছে- লেখক।)

০৫. এ টেল অব টু সিটিজ: (A Tale of Two Cities)

লেখক চার্লস ডিকেন্স: প্রথম প্রকাশ : ১৮৫৯, এ যাবত মোট বিক্রি ২০০ মিলিয়নের বেশী। ডিকেন্সের লেখা ফরাসি বিপ্লবের পটভূমিকায় রচিত এতে লন্ডন ও প্যারিস শহরকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। ফরাসি বিপ্লব শুরু সময়ে ফ্রান্সের চাষীদের দুর্দশার কথা, বিপ্লবের প্রথম বছরগুলোয় বিপ্লবীদের নিষ্ঠুরতা এবং একই সময়ে লন্ডনের জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ১৯৫৭ সালে মঞ্চনাটক হিসেবেও উপন্যাসটির কাহিনী পরিবেশিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত ‘এ টেল অব টু সিটিজ’ বিক্রি হয়েছে দুইশ’ মিলিয়নেরও বেশি কপি। সারা পৃথিবীতে অনুবাদ হয়েছে পঞ্চাশেরও বেশী ভাষায়। ৪৫ অধ্যায়ের এ উপন্যাসটি ১৮৫৯ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩১ সপ্তাহ ধরে প্রকাশিত। পরে অবশ্য এটি থেকে তৈরি হয়েছে সিনেমা। অসংখ্যবার ইউরোপ এমেরকায় এটি রেডিওতে এবং টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। বানানো হয়েছে অনেক নাটকও। মূলত উইকিপিঢিয়ার তথ্যমতে এটাই বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বই। ২০০ মিলিয়ন এর বেশী এই বই সারাবিশ্বে বিক্রি হয়েছে।

০৫. দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস : (The Lord of the rings)

ইংরেজ ভাষাবিজ্ঞানী জে. আর. আর. টলকিন রচিত একটি মহাকাব্যিক হাই ফ্যান্টাসি উপন্যাস। এই উপন্যাসকে বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রচনা বলে ধরা হয়। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, মুখ্যত দ্বিতীয বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ধাপে ধাপে এই উপন্যাসটি রচিত এটি তিন খন্ডে প্রকাশিত হয়। যুদ্ধোত্তর বাজারে কাগজের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ১৯৫৪-৫৫ সালের আগে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে একাধিকবার এই উপন্যাস পুনর্মুদ্রিত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়। আন্তজাতিক দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই বইয়ের মোট বিক্রি ১৫০ মিলিয়ন কপি।

০৬. দ্য হবিট: (The Hobbit)

,জে. আর. আর. টলকিন এর শিশু সাহিত্য। এটি ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। শিশু সাহিত্যে একটি ক্লাসিক বই হিসাবে জনপ্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বইটি অনুবাদ করা হয়েছে। কল্পকাহিনীর ভিত্তিক উপন্যাস হলেও যা সমালোচকদের প্রশংসা পায়। বিখ্যাত কার্নেগী পদক জন্য মনোনীত হয় এবং শ্রেষ্ঠ কিশোরী কথাসাহিত্য হিসেবে নিউ ইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন পুরস্কার লাভ করে। বইটি এখনও জনপ্রিয় এবং শিশু সাহিত্যে হিসেবে এই বইয়ের এ যাবত কালের বিক্রি ১৪১ মিলিয়ন কপি।

০৭. দি লিটল প্রিন্স : (The Little Prince)

ফ্রেঞ্ছ ভাষার লেখা। ফরাসী লেখক আন্তোনিও ডি সেইন্ট এক্সুপেরী এই বইটি প্রথম লেখেন ১৯৪৩ সালে। ফ্রান্সে ভোটের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দির সবচেয়ে সেরা বই নির্বাচিত হয়েছিল এটি। এ পর্যন্ত ২৫০ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং মোট বিক্রির পরিমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন কপি! পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিক্রি এবং ফরাসী ভাষার সর্বাধিক বিক্রিত বই।
ডিসেম্বর ৩০, ১৯৩৫ সালে অর্থাৎ এই বইয়ের লেখক তার বিমান নিয়ে সাহারা মরুভূমিতে দূর্ঘটনায় পড়েন। জনশূন্য মরুভূমিতে খাদ্য এবং পানিবিহীন। প্রচন্ড সূর্যতাপে পানিশুন্যতা দেখা দিল। তাদের বিভিন্ন ধরনের হ্যালোসিনেশন শুরু হল সেখান থেকেই তিনি কাহিনী চিন্তা করেন। মূল কাহিনী একজন বৈমানিককে নিয়ে যিনি প্লে ক্র্যাশ করে সাহারা মরুভূমিতে গিয়ে পড়েন। তা মূলত এক্সুপেরীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে। এখানে এক রাজার গল্প আছে। সর্ব ‘ক্ষমতাময়’ এই রাজা আকাশের তারকাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে তবে সে শুধু এমন আদেশ দেয় যেটা তারকারা এমনিতেই করতো। এই কথাটা সে তার প্রজাদের ব্যাপারে এই ভাবে বলে -“সাধারণ প্রজাদের কর্তব্য হচ্ছে রাজার আদেশ মানা, শুধু যদি সেই আদেশ ন্যায্য হয়।

০৮. হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন: ((Harry potter and the Philosfers Stone)

ব্রিটিশ লেখিকা জে. কে. রাউলিং রচিত হ্যারি পটার নামক কাল্পনিক উপন্যাস সিরিজের প্রথম উপন্যাস। এখানে হ্যারি পটার নামে একজন কিশোর জাদুকরের গল্প যে এগার বছর বয়সে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করে যে সে একজন জাদুকর পরে সে কালো জাদুকর লর্ড ভলডেমর্টকে পরাজিত করে এবং পরশপাথরটিকে উদ্ধার করে। সারা পৃথিবীতে হ্যারিপটার সিরিজের বই প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পৃথিবীর বিভন্ন ভাষায়ি এই সিরিজের বই বেশ জনপ্রিয়। হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন বইয়ের কাহিনী শুরু হয়, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াাবহ কালো জাদুকর লর্ড ভলডেমর্ট এর পতনের মাধ্যমে। ১১০ মিলিয়ন কপি পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির রেকর্ড হয়েছে।
রাউলিং এর জাদুকরি লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই উপন্যাসের মাধ্যমে ২৬ জুন জুন ১৯৯৭ সালে। .১৯৯৮ সালে , স্কলাস্টিক কর্পোরেশন এর অধীনে যুক্তরাস্ট্রে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন প্রকাশিত হয়। এই বই শিথ সাহিত্যে ইউরোপ ও আমেরকিার সব বড় বড় পুরষ্কার বাগিয়ে নিয়েছে। এই বই ১৯৯৯ সালে সর্বোচ্চ বিক্রিত বইে হিসেবে ইয়র্ক টাইমস তালিকার শীর্ষে পৌঁছে । এর থেকেি তৈরীকৃত সিনেমাও সারাবিশ্বে বেশ জনপ্রিয়।

৯. অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়ার নান: (And Then there were none)

বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা গল্পের লেখক আগাথা ক্রিস্টির একটি সেরা রহস্য উপন্যাস, তিনি এ ধরনের উপন্যাস লেখার জন্য সারাবিশ্বে জনপ্রিয়। এই বইটি প্রথম ১৯৩৯ সালের ৬ নভেম্বর কলিন্স ক্রাইম থেকে যুক্তরাজ্যে সালে প্রকাশিত হয়।
‘‘ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’’ তিনদিনের যাত্রায় ইস্তাম্বুল থেকে লন্ডন যাওয়ার মাঝপথে তুষারপাতে আটকা পড়ে। যদিও বছরের এটা মন্দা সিজন, কিন্তু অদ্ভূতভাবে ট্রেন পুরো ভর্তি, নানা দেশের নানা জাতের বিচিত্র সব মানুষে, যাদের মাঝে আছেন বেলজিয়ান গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোও। এর মাঝেই ঘটে যায় এক নৃশংস হত্যাকান্ড, পোয়ারোর ঠিক পাশের বার্থেই, আর চারদিক তুষারে ঢাকা জনমানবহীন এলাকায় বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় এক-ট্রেন রহস্যময় সাসপেক্টদের মাঝে পোয়ারো শুরু করেন তদন্ত এটাই হচ্চে এই কাহিনীর শুরু এবং মূল সূত্র। ইতোমধ্যে এই বইয়ের বিক্রি ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

১০. ‘শী’ : ( She)

হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।’শী’ প্রথমে গ্রাফিক ম্যাগাজিনে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এটি আয়েশা সিরিজের প্রথম বই। ‘আয়েশা’ সিরিজের প্রচুর জনপ্রিয়তা রয়েছে। কেউ বলেছেন বইটি অত্যন্ত ভিক্টোরিয়ান। বইটি সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় অষ্টম। বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি কপিরও বেশি। ৪৪টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ‘শী’ দ্বারা রাইডার হ্যাগার্ড ‘লস্ট ওয়ার্ল্ড’ সাব জনরার প্রবর্তন করেছেন।পরবর্তী যুগে ফ্যান্টাসি,এডভেঞ্চারের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। অনেকে সমালোচনা করলেও, বইটি অধিকাংশ পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই বই তার লেখক হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডকে অমর করে দিয়েছে।

‘শী’ মূলত এডভেঞ্চার ঘরানার রচনা। হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড তার কর্মস্থল আফ্রিকার অভিজ্ঞাতকে বইটি লেখায় কাজে লাগিয়েছেন। তিনি ছয় সপ্তাহের মধ্যেই বইটি লেখা সম্পূর্ণ করেন। তিনি তার লিটারেরি এজেন্টের অফিসে বসে ‘শী’ এর শেষটুক লিখেছিলেন। লেখা শেষে ম্যানুস্ক্রিপ্ট এজেন্টের টেবিলে ছুড়ে ফেলে বলেন, এটাই সেটা, যার জন্য আমি বিখ্যাত হয়ে থাকব। প্রাচীন বর্বরদের বর্ণনাও খুবই সুন্দরভাবে দেওয়া হয়েছে এই বইতে। বইটির মূল চরিত্র আয়েশা। খুবই রহস্যময় চরিত্র। আয়েশার জন্ম দুই হাজার বছর পূর্বে আরবে। অসম্ভব রূপধর, কোনো মানুষের পক্ষে তার রুপকে সহ্য করা দুষ্কর। আয়েশা চরিত্র অস্বাভাবিক ক্ষমতা সম্পন্ন। তাকে ঘিরেই রহস্য আর কাহিনী এগোতে থাকে। বাংলা ভাষা সহ পৃথিবীর অনেক ভাষায় বইটির অনুবাদ বেরিয়েছে। এই বই শত সমালোচনাকে জয় করে বিক্রির ঘরে ১০০ মিলিয়ন ছুয়ে ফেলেছে।
এছাড়া সেরা দশের মধ্যে আরেকটি বই রয়েছে। সেটাও ১০০ কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। চাইনিজ ভাষায় লেখা বইটির ইংরেজী নাম দ্যা রেড চেম্বার। ঐতিহ্যবাহী চিনকে নিয়ে লেখা ১৮ শতকের পটুভমির এই বইয়ের লেখক ঈধড় ঢঁবয়রহ। এছাড়া বিশ্বের সেরা দশের মধ্যে থাকা আরো সিএসলেওস এর লেখা ইংরেজী উপন্যাস দি লায়ন দি উইচ এর দ্যা ওয়ার্ডরোব মোট বিক্রি ৮৫ মিলিয়ন প্রকাশকাল ১৯০২। রিচার্ড ব্যাচ এর লেখা জোনাথন লিভিংস্টোন সীগাল এটি ১৯৭০ সালে ইংরেজীতে প্রকাশিত মোট বিক্রি ৪৪ মিলিয়ন। ই এল জেমস এর লেখা ফিফটি শেডস অব গ্রে মোট বিক্রি ৪০ মিলিয়ন, প্রকাশ ২০১১ ভাষা ইংরেজী।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, সামহোয়ার ইনব্লগ।।