Featured

নতুন পাঠকের বই

জিমে গিয়ে শরীরচর্চায় যেমন শরীর সুগঠিত হয়, বই পড়ে চিন্তা করলে তেমনি মন সুগঠিত হয়। সুগঠিত মন অমূল্য সম্পদ, এটা দিয়ে বিশ্বজয় করে নেয়া যায়। এ কারণে আমি স্বপ্ন দেখি, আমাদের কিশোর তরুনেরাই শুধু নয়, যাঁরা এতদিন বই পড়েননি অনভ্যাসের কারণে তাঁরাও বই পড়া শুরু করবেন।
নিচের পছন্দগুলো আমার ব্যক্তিগত, কাজেই এর সাথে আপনার না মিললেও সমস্যা নেই। পাঁচ বছর বয়েস থেকে আজকের বত্রিশ বছর বয়েস পর্যন্ত বই পড়ার আমার যে অভিজ্ঞতা, এর আলোকে চেষ্টা করছি কিছু বলতে। চাইলে এভাবে বই পড়া শুরু করতে পারেন।
প্রথম পরামর্শ হচ্ছে-
READ ANYTHING- Just for five minutes a day.
আপনার যা পড়তে ভাল লাগে সেটাই পড়ুন, দিনে পাঁচ মিনিট করে হলেও পড়ুন, তাও অন্তত! পড়ুন, প্লিজ। হ্যাঁ, পাঁচ মিনিট প্রতিদিন কিন্তু একেবারে কম সময় নয়, এই সময়ে যে কোন একটা বিশ্ববিখ্যাত বইয়ের প্লট সিনোপসিস বা কাহিনীর সারমর্ম পড়ে ফেলা যায়। দৈনিক ইত্তেফাকে ছোটবেলায় টারজানের কমিক্স দিতো, প্রতিদিন সেগুলো কেটে জমিয়ে আঁঠা দিয়ে খাতায় সেঁটে কমিক বই বানাতাম সেই সময়ে।
হুমায়ূন আহমেদ এর নামে অনেক আঁতেল নাক সিঁটকান, আমি তাঁদের দলে নই। আম্মু বইমেলা থেকে তাঁর “বোতলভূত” বইটা সেই ছোটবেলায় এনে দিয়েছিলেন, ওটা দিয়েই আমার বই পড়ায় হাতেখড়ি। এরকম হাজার হাজার শিশু কিশোর হুমায়ূন আহমেদ পড়ে বই পড়ার অভ্যাসটা শুরু করে। আপনিও এরকম হালকা মেজাজের বই দিয়ে শুরু করতে পারেন।

2988f532d4bbec4c4dab67607bdd2010
আমার ফেসবুক প্রোফাইলে রিভিউ করা ভারী ভারী বইগুলো দেখে হতাশ হবেন না, এগুলোতে দাঁত বসাতে আমার অনেক বছর লেগেছে। আমি অতি নিম্নমানের মগজের মানুষ, তাই এতদিন লেগেছে- মোটামুটি মাঝারি মানের যে কেউ ছয় মাসের ভেতরেই একেবারে শূণ্য থেকে শুরু করে ভাল একটা পর্যায়ে চলে আসতে পারবেন। আর বছরখানেক প্রতিদিন আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা আনন্দ নিয়ে পড়লে তো কথাই নেই!
সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে শুরু করাটা। এর পর বাকিটা এমনিই পারবেন। মাত্র পাঁচ মিনিট, এটুকু করবেন না?
দ্বিতীয় পরামর্শ-
আপনি বই পড়েন দেখে নিজেকে যেমন সুপিরিয়র ভাবার কোন কারণ নেই, তেমনি আপনার বই পড়াকে বিদ্রুপ করা লোকজনকে সিরিয়াসলি নেয়াটাও অনাবশ্যক। বই হাতে দেখলেই একজাতীয় মানুষ আপনাকে “পন্ডিত, আঁতেল” ইত্যাদি বলে বিদ্রুপ করবে। পাত্তাই দেবেন না। অসমাপ্ত আত্মজীবনী হাতে আপনি ব্যস্ত আছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপচারিতায়, ধম্মপদ হাতে শুনছেন গৌতম বুদ্ধের উপদেশ, মসনভী হাতে নিয়ে কল্পনা করছেন জালালুদ্দিন রূমীর স্পিরিচুয়ালিটি- কে কি বলল এসবে কান দেবার কি দরকার? ওরা যখন বাজে গল্পে সময় নষ্ট করছে, আপনি তখন মগজে শান দিচ্ছেন। জীবনের লড়াইয়ে দুজন মুখোমুখি হলে কার পাল্লা ভারী হবে বলুন তো?
তৃতীয় পরামর্শ-
এবার কিছু নির্দিষ্ট বইয়ের নাম দিই, যেগুলো শুরু করার জন্য চমৎকার। সেবা অনুবাদে অপূর্ব সব বিশ্বসেরা বই সহজ ভাষায় পড়তে পারবেন। কিশোর ক্লাসিক, থ্রিলার কিংবা মাসুদ রানা- এক কাজীদা গত পঞ্চাশ বছর ধরে আমাদের আলো দিয়ে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে, একটা জাতিকে তিনি মগজে মননে উন্নত করে দিয়েছেন। একশটা একুশে পদকও কাজীদার কাজের স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট নয়। সেবার বই পড়ুন!
সেবা প্রকাশনীর আমার কিছু প্রিয় বই হচ্ছে অগ্নিপুরুষ (মাসুদ রানা) , আ টেল অফ টু সিটিজ ( কিশোর ক্লাসিক), বাউন্টিতে বিদ্রোহ, থ্রি কমরেডস, রবিন হুড (সেবা অনুবাদ)।
সেবা দিয়েই শুরু করুন না কেন?
ইংরেজি বই পড়তে চাইলে শুরু করুন পাউলো কোয়েলহোর দি আলকেমিস্ট বইটা দিয়ে। বানান করে ইংরেজি পড়তে পারে এমন মানুষও এ বই পড়ে বুঝতে পারবেন। বিদেশী ভাষায় প্রথম বইটা পড়াই সবচেয়ে কঠিন, যে কোন একটা বই পড়ে ফেললে যে সাহস হয় ওটা দিয়ে পরেরটা সহজেই পড়তে পারবেন। আমার সাজেস্ট করা পাঁচটা ইংরেজি বই হবে: দি আলকেমিস্ট, দি গডফাদার (মারিও পুজো), রেজ অফ এঞ্জেলস (সিডনি শেলডন) , দি ঈগল হ্যাজ ল্যান্ডেড ( জ্যাক হিগিন্স) আর স্যাপিয়েন্স (ইউভাল নোয়া হারারি)। প্রথম চারটা ফিকশন, শেষটা নন ফিকশন।
বোনাস হিসেবে দুটো লাইফ ম্যানুয়ালের নাম দিই-
মেডিটেশনস (মারকাস অরেলিয়াস)
আর্ট অফ ওয়ার (সান জু)
আরেকটা চমৎকার বই হচ্ছে সোফি’স ওয়ার্ল্ড, একেবারেই সহজ ভাষায় দর্শনের মত জটিল বিষয় এ বইয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, যা আপনার চিন্তার জট খোলার জন্য যাদুর কাঠির কাজ করবে। প্রতিটা বই নীলক্ষেতে সস্তায় পাবেন। আব্রাহাম লিঙ্কনের কোলে সব সময় বই খোলা থাকত। মিটিং শেষ করে একজন বেরিয়ে আরেকজন ঢোকার ফাঁকে তিনি চোখ বুলিয়ে দুটো করে শব্দ পড়ে নিতেন। আমার মনে হয় আমার আপনার জীবন আর যাই হোক এই লোকের মত জটিল না!
শেষ করছি চীনা দার্শনিক লাও জু এর উক্তি দিয়ে-
A journey of thousand miles starts with one step.

Featured

স্কুল জীবনের ১০ টি সেরা বই

স্কুলজীবন প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জীবনে এক মূল্যবান সময়। কারণ দীর্ঘ স্কুলজীবনে চলার পথে অনেকের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি হয়,অনেক অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়। আবার তখন অফুরন্ত সময় থাকে অনেক ভালো কিছু করার। বই পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠে তখনই। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন থেকেই আমাদের বাসার কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আসতো। মূলত সেই সময় থেকেই নিয়মিত গল্পের বই পড়তাম। স্কুলে থাকার সময় কিছু বই মনের মাঝে দাগ কেটে রেখেছে। মনে হয়েছে, এগুলো না পড়লে অনেক কিছুই মিস করতাম। চলো জেনে নেই সেই বইগুলোর নাম!

১। আমি তপু, মুহম্মদ জাফর ইকবাল:

জাফর ইকবাল স্যার আমার অতি প্রিয় লেখকদের একজন। তাঁর দারুণ সব লেখার মধ্যে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে এই উপন্যাসটি।

কেন পড়বে:

এই গল্পটি কিশোর তপুকে নিয়ে লেখা। তার জীবনের খারাপ সময়ের বর্ণনা, নিঃসঙ্গতায় ছোট্ট ইঁদুরের সাথে গল্প-সব কিছু বিবেচনা করা হলে কিশোর বয়সে এত কষ্ট করা ছেলেটির জন্য চোখের কোণে পানি চলে আসে। আমারো এসেছিল, প্রথম যেদিন বইটি পড়ি। বারবার পড়েও এখনো সেই অনুভূতি কাজ করে।

২। নাট বল্টু, মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ

আমার পড়া সবচেয়ে মজাদার বইগুলোর একটি ছিল এটি । উপন্যাসটির অনেক ঘটনা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়!

কেন পড়বে:

ছোট এক শিশুর গল্প যে কিনা ব্যাঙ পকেটে নিয়ে ঘুমায়, নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবন করে, দেশের কাপড় ঘাটতি কমাতে মায়ের শাড়ি ১২ হাত থেকে ৬ হাত কেটে নেয়! একবার হলেও এই ক্ষুদে সায়েন্টিস্টের গল্পটি পড়ে ফেলো, সময় নষ্ট হবে না এটা নিশ্চিত!

৩। শঙ্খনীল কারাগার, হুমায়ূন আহমেদঃ

হুমায়ূন আহমেদ স্যার আমার খুব পছন্দের আরেকজন লেখক। লেখার জাদুতে আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করেন তিনি। আমার কাছে এই উপন্যাসটিই তাঁর সেরা লেখা বলে মনে হয়েছে।

কেন পড়বে:

প্রত্যহ জীবনের এক সামাজিক গল্প গড়ে উঠেছে খোকার পরিবারকে নিয়ে। যেখানে আছে প্রেম, ভালোবাসা, ভাই-বোনের মধ্যে মমত্ব। বাস্তবতা নিয়ে লেখা বইটি পড়লে সাধারণ একটি পরিবারের জীবন সম্পর্কে ধারণা হবে তোমার। মনে হবে তুমিও এই পরিবারের একটি অংশ, পরিবারের সুখ-দুঃখে আবেগ ছুঁয়ে যাবে তোমাকেও!

৪। রবীন্দ্র ছোটগল্পসমগ্র:

রবিঠাকুরের লেখা নিয়ে আর কি বলবো! প্রথমে সাধু ভাষা পড়তে একটু ভয় পেলেও যখন এই সমগ্র পড়ে ফেললাম, তখন বেশ ভালই লাগল।

কেন পড়বে:

রবীন্দ্রনাথের যে ক’টি ছোটগল্প রয়েছে তার প্রতিটিই আলাদা স্বাদের। সমাজের প্রতিনিয়ত ঘটনাগুলোকে তুলে এনেছেন লেখক তাঁর নিপুণ তুলির আঁচড়ে। তাই একবার পড়তে বসলে আর ওঠার ইচ্ছা হবে না!

৫। জুল ভার্ন সমগ্র:

জুল ভার্নকে প্রায়ই বলা হয় ‘Father of Science Fiction’। তাঁর লেখা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে বলা বিভিন্ন বাহন আর যন্ত্রের অনেকগুলোই সত্যি হয়েছে আধুনিক পৃথিবীতে, সাবমেরিন এর মধ্যে অন্যতম!

কেন পড়বে:

আমার মত অ্যাডভেঞ্চার আর সাথে একটুখানি বিজ্ঞানের ছোঁয়া পছন্দ যাদের, তাদের অবশ্যই জুল ভার্নের সবগুলো গল্প-উপন্যাস পড়ে ফেলা উচিত। সায়েন্স ফিকশন নিয়ে এমন স্বাদু লেখা খুব কম লেখকই লিখতে পেরেছেন!

৬।পথের দাবী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

বাংলা সাহিত্যে আমার আগ্রহ জন্মানোর শুরুর সময়টায় শরৎ ছিলেন আমার প্রথম পছন্দ।

কেন পড়বে:

কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা লেখাগুলোর একটি হলো পথের দাবী। বাংলা সাহিত্য ভালো লাগলে এটি একটি অবশ্য পাঠ্য। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ বিপ্লবী সব্যসাচী আর তাঁর বিপ্লবের দারুণ এক কাহিনী নিয়েই এই উপন্যাসটি।

৭। ১০০ মনীষীর জীবনী:

বিখ্যাত সব মনীষীদের গল্প আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার কাহিনী শুনে অবাক হই, তাঁদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি!

কেন পড়বে:

বিশ্বের মনীষীদের জীবনী পড়ে আমরা যেমন তাদের গুণগুলো জানতে পারি, তেমনি তাদের মত জীবন গঠনও করতে পারি। আত্মিক উন্নতি, চরিত্র গঠনের জন্য স্কুলজীবন উত্তম সময়, এজন্য এই বইটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবে।

৮। তিন গোয়েন্দা, রকিব হাসান:

ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে তিন গোয়েন্দার ভলিউম শেষ করে। একটা বই নিয়ে বসলে সময় কিভাবে ফুরিয়ে যেত, টেরও পেতাম না!

কেন পড়বে:

যারা রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করো তাদের জন্য তিন গোয়েন্দার বিকল্প নেই। কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড , মুসা আমানের সাথে বিচরণ করতে পারবে কল্পনার রাজ্যে-সেটিই বা কম কিসে?

৯। গালিভারস ট্রাভেল, জোনাথন সুইফট:

ছোটবেলায় বড় ভাইয়াদের দেখতাম কেউ একটু লম্বা হলেই তাকে ‘গালিভার’ ডাকতো, আর খাটো বন্ধুদের মজা করে ডাকতো ‘লিলিপুট’ বলে। একটু বড় হয়ে মজাদার এই বইটি পড়ে বুঝলাম আসল কাহিনী টা কী!

কেন পড়বে:

ছোট্ট লিলিপুটদের দেশে গালিভার নামের একজন মানুষকে নিয়ে এই কল্পিত গল্পটি। মজাদার সব কাহিনী আর গভীর চিন্তার মিশেলে এই উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে অনন্য!

১০। অলিভার টুইস্ট, চার্লস ডিকেন্স:

এটিকে অনায়াসে চার্লস ডিকেন্সের অন্যতম সেরা উপন্যাসগুলোর একটি বলা যায়। ছোট্টবেলায় জীবন সম্পর্কে ধারাপাত করতে এই বইটির বিকল্প ছিল না!

কেন পড়বে:

ছোটবেলায় বাবা-মা কে হারানো অলিভারকে নিয়ে লেখক অসামান্য এই লেখাটি লিখেছেন। এতিম অলিভারের পরিবার, তার বেড়ে ওঠা, কৈশোরকাল সব কিছুই ফুটিয়ে তুলেছেন এই হৃদয়স্পর্শী গল্পের মাধ্যমে!

এমনই আরো অনেক বই আছে যেগুলো পড়তে গেলে হৃদয়ে দাগ কেটে যায়, কোন কোনটি মনে জাগায় শিহরণ, আবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে হয় কিছু বই পড়লে! আবার হয়তো সেরকমই কিছু বইয়ের লিস্ট নিয়ে আসবো এখানে, সে পর্যন্ত সবাইকে বই পড়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি। বই পড়ো, নিজেকে জানো, আর আত্মশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাও মননশীলতার পথে!

সূত্র-১০ মিনিট স্কুল।।

বোবায় ধরা ও মধ্যঘুমের আতঙ্ক

রাত তখন ৩ টা ছুঁইছুঁই, হঠাৎ ঘুমন্ত আপনি আবিষ্কার করলেন আপনার বুকের উপর বসে আছে আস্ত একখানা মানবমূর্তি। প্রচন্ড ভারী মূর্তিটি এমনভাবে চেপে বসে আছে আপনি না পারছেন সামান্য নড়তে, না পারছেন মুখ ফুটে চিৎকার করতে। অথবা গভীর রাতে আপনি আবিষ্কার করলেন আপনি ভেসে আছেন শূন্যে। কেউ একজন আপনাকে বয়ে নিয়ে চলেছে অসীমের পথে। এক অসহায় অবস্থা ঘিরে ধরেছে আপনাকে। দুটি ঘটনায় যে মূর্তির কথা বলা হয়েছে, আমাদের দেশে এই মূর্তিটি ‘বোবা’ বলে কুপরিচিত।

বোবার অস্তিত্ব’

সহজ কথায়, বিজ্ঞানের ভাষায় এই ‘বোবা’ জাতীয় কোন অশরীরি বা মূর্তির কোন ধরণের অস্তিত্ব নেই। তবে ‘বোবায় ধরা’ এ জাতীয় ঘটনা হারহামেশাই ঘটে থাকে। এই ঘটনাকে বলা হয় Sleep/Sleeping Paralysis বা নিদ্রা পক্ষাঘাত। পৃথিবীতে প্রায় ৭.৬ শতাংশ মানুষ এই স্লিপ প্যারালাইসিস এর শিকার হয়ে থাকেন। প্যারালাইসিস শুনে আবার ভয় পেয়ে যাবেন না। এটি ঝুকিপূর্ণ কিছু নয়। বোবায় ধরলে ব্যক্তি যেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে অতি-অল্প সময়ের জন্য বাক ও চলনশক্তি হারিয়ে ফেলেন, সেহেতু এটিকে ঘুমের পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিস বলা হয়। এ বিষয়ে ভালমত বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ঘুম কি?

ঘুম জিনিসটি আসলে কি?

সাধারনত সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাংশপেশী যখন ক্লান্ত হয়ে যায় তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই ক্লান্ত শরীরের বিশ্রামের জন্য বেশ কিছু অঙ্গ সাময়িকভাবে অসাড় করে দেয়। এটাই ঘুম। আমাদের দেহে ঘুম ২ ধাপে সম্পন্ন হয়।প্রথম ধাপ NREM (Non Rapid Eye Movement) এবং দ্বিতীয় ধাপ REM (Rapid Eye Movement)

NREM ধাপ

ঘুমের প্রথম ৯০ মিনিটআপনি ঘুমানোর প্রথম ৯০ মিনিট সময়কে NREM ধাপ বলা হয়। NREM ধাপটি আবার ৩ ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপ– ঘুমের শুরুর ধাপ। আপনার চোখ বন্ধ, কিন্তু এখনও আপনি সজাগ রয়েছেন। এই ধাপ ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।দ্বিতীয় ধাপ– আপনি হালকা ঘুমের মধ্যে ডুবে গেছেন। এ অবস্থায় আপনার হৃদস্পন্দন কিছুটা কমে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রাও কিছুটা কম থাকে। আমাদের দেশে এই ঘুমকে কাঁচা ঘুম বলে। তৃতীয় ধাপ– ঘুমের গভীর পর্যায়। এ অবস্থায় আপনাকে ঘুম থেকে সহজে উঠানো যাবেনা। কেউ যদি ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয় তবে আপনি কিছুক্ষনের জন্য দিশেহারা অস্বস্তিকর অনুভব করবেন। এ স্তরে গিয়ে আপনার শরীর তার মৃত কোষগুলো মেরামত করে নেয়। এ স্তরে হাড় গঠন, পেশি ফরমেশনের মত স্ট্রাকচারাল কাজগুলো সম্পন্ন হয়। এই সম্পূর্ণ প্রসেসটি গঠিত হয় প্রায় ৯০ মিনিটে। তারপরেই আসে মূল ধাপ, REM।

REM ধাপ, বোবায় ধরার উৎকৃষ্ট মুহুর্ত!

ঘুমের প্রথম ৯০ মিনিট পর যখন NREM ধাপ শেষ হয়ে যায় ঠিক তখনই শুরু হয় REM ধাপ। এ ধাপে একজন মানুষের চোখ ডানে-বাঁয়ে এদিক-সেদিন নড়তে থাকে এবং ঘুমন্ত মানুষটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ঘুমন্ত মানুষের পাপড়ির উপর দিয়ে চোখের মুভমেন্ট দেখে বুঝবেন সে এখন স্বপ্ন দেখছে। এ ধাপে মস্তিষ্ক সবথেকে বেশি সক্রিয় থাকে। আর এ জন্যেই এ ধাপে স্বপ্ন দেখি আমরা। যাই হোক সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে- এই ধাপে মানুষের চোখ ছাড়া শরীরের সমস্ত পেশির কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

এখন কোন কারনে যদি ওই মুহুর্তে অর্থাৎ REM স্টেজ চলাকালীন একজন মানুষের ঘুম সামান্য ভেঙে যায়, ওই মুহুর্তে সেই ব্যক্তি ঘুম আর সজাগ এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি দশায় অবস্থান করবে। অর্থাৎ সে পুরোপুরি ঘুমন্তও নয় আবার পুরোপুরি সজাগও নয়। এ অবস্থায় তার চোখ এবং মস্তিষ্ক সজাগ হলেও সমস্ত দেহের মাংশপেশী কিন্তু অসাড় হয়ে আছে। এমনকি জিভ এবং অস্বয়ংক্রিয় শ্বাস-প্রশ্বাস সিস্টেমও। তাই ওই মুহুর্তে আপনি চোখে দেখতে পেলেও হাত পা নাড়ানো তো দূরের কথা, কথাও পর্যন্ত বলতে পারবেন না এবং ইচ্ছামত নিশ্বাসও নিতে পারবেন না। এটিই হচ্ছে স্লিপ প্যারালাইসিস।

আবার অনেক সময় আপনার চোখও সম্পূর্ণ সজাগ হয়ে ওঠে না, সে অবস্থায় আপনি একই সাথে স্বপ্নও দেখবেন এবং স্লিপ প্যারালাইসিস এর শিকারও হবেন। আর অধিকাংশ সময় আমরা এমন স্বপ্ন দেখি যা আমাদের পরিপার্শ্বের সঙ্গে রিলেটেড। আপনি যখন স্লিপ প্যারালাইজড অবস্থায় আছেন এবং ওই মুহুর্তে আপনি হাত-পা নাড়াতে পারছেন না, তখন আপনার মস্তিষ্ক অনেক ভেবে-চিন্তে ওইরকমই একটা স্বপ্ন প্রডিউস করবে। অচেতন অবস্থায় আপনি দেখবেন বুকের উপর কেউ বসে আছে, বা আপনি ভেসে আছেন শূন্যে। এগুলোকে স্লিপিং হ্যালুসিনেশন বলা হয়। যেমন উত্তপ্ত মরুভূমিতে দূর থেকে উলটো গাছ বা মনুমেন্ট দেখে একজন পথিকের কি মনে হয়? উলটো গাছ বা উলটো বস্তু কখন দেখা যায়? একমাত্র যদি সেটা জলের কিনারে অবস্থিত হয়। তাই আপনার বোকা মস্তিষ্ক ভেবে বসে দূরে ওই জায়গায় বুঝি জল রয়েছে। এটাকে বলে মরিচিকা!ঠিক তেমনই আপনি উঠতে পারছেন না, নিশ্বাস নিতে পারছেন না, এগুলো কখন সম্ভব? যদি আপনাকে বুকের উপর থেকে কেউ চেপে ধরে রাখে। তাই স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় আপনার মস্তিষ্ক মুহুর্তের মধ্যে নিজের মত করে একটা সমাধান বের করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাকে দেখায়।

স্লিপিং প্যারালাইসিস REM ধাপেই কেন হয়?

ঘুমের এই REM ধাপটি সাধারনত একজন মানুষের ঘুমের ২০-২৫% সময় জুড়ে ঘটে। NREM শেষ হওয়ার পর মাত্র ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী হয় এই REM ধাপ। এরপর আবার NREM ধাপের পুনরাবৃত্তি হয়। এভাবে NREM-REM সাইকেল চলতেই থাকে। REM ধাপে গিয়ে মানুষের মস্তিষ্ক সবথেকে বেশি সচল এবং সক্রিয় থাকে। এ কারনেই তখন এই ধরনের ফেনোমেনা ঘটে থাকে। আফটার অল যত দোষ মস্তিষ্ক ঘোষ।

স্লিপিং প্যারালাইসিস কাদের হয়, কেন হয়?

যারা দিনে কম ঘুমান (ইনসোমনিয়া রোগীদের বেশি হতে পারে) একেক দিন একেক সময় ঘুমাতে যানমাদকাসক্ত (এদের মস্তিষ্ক এদের কথা কখনই শোনেনা) ঘুমের ওষুধ, শক্তিবর্ধক ওষুধ ব্যবহার করলেযাদের নার্কোলেপ্সি বা অতি ঘুমকাতরতা আছেবিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমালেসহজ কথায় যাদের দৈনিক কার্যক্রম নিয়ম-কানুনের মধ্যে আবদ্ধ, তাদের এ ধরনের সমস্যা খুবই কম হয়। আমাদের দেশে চাকুরিজীবি, শ্রমিক, রিক্সাচালক ইত্যাদি পেশাভুক্ত সাধারন মানুষগুলোর জীবনপ্রক্রিয়া খুবই নিয়মাবদ্ধ হয়। এরা দিনের নির্দিষ্ট সময় খাদ্যগ্রহন করে এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়েই ঘুমোতে যায়। তাদের লাইফস্টাইল অনুকরনীয়।

বিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমালে স্লিপিং প্যারালাইসিস কেন হয়?

এ বিষয়টাও সম্পূর্ণ মস্তিষ্কগত। আপনি যখন বিছানায় পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমিয়ে থাকেন, খেয়াল করবেন তখন আপনার শরীর সবথেকে বেশি ‘হেল্পলেস’ অবস্থায় থাকে। মস্তিষ্ক এ বিষয়টি অনুধাবন করে আপনাকে হেল্পলেস ফিলিংস প্রদান করে। এছাড়া সোজা হয়ে ঘুমালে শরীরের রক্ত সঞ্চালন দ্রুততর হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা তখন বৃদ্ধি পায়। আমরা যারা মুসলিম ধর্মালম্বি তাদের ডান এবং বাম দিকে কাত হয়ে ঘুমানোর শিক্ষা দেওয়া হয় (ডান কাত বেটার)। ডানে বাঁ বামে কাত হয়ে ঘুমালে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য (Interstitial Wastes) নিষ্কাশিত হয়ে যায়। এতে এলঝেইমার, পার্কিনসন ইত্যাদি নিউরোলজিকাল রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

স্লিপিং প্যারালাইসিস নিয়ে অসংখ্য ভুল ধারনা রয়েছে।

অনেকে এ বিষয়টির সঙ্গে অশরীরি কিংবা জ্বীন-ভূতকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন। প্রথমত আমি মোটেই নাস্তিক নই। জ্বিনে আমিও বিশ্বাস করি। তবে মনে রাখবেন স্লিপিং প্যারালাইসিসের মত ঘটনায় জ্বিন বা অশরীরির কোন প্রভাব নেই। এটি সম্পূর্নই আপনার শারিরীক অভ্যাশের উপর নির্ভর করবে। মাঝেমধ্যে বছরে দুই একবার স্লিপিং প্যারালাইসিস হলে স্বাভাবিকভাবেই নিন। কিন্তু ঘন ঘন এ সমস্যা হলে দয়া করে কোন সাধু-বাবা অথবা মাজারে পাক-এর শরণাপন্ন না হয়ে কোন ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিন। নয়ত পরবর্তিতে মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এবং যদি পরবর্তিতে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে চান তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমোতে যান এবং পর্যাপ্ত সময় ঘুমান। ডান বাঁ বাম কাতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

বোবায় ধরা নিয়ে কিছু ট্রিভিয়াঃ (জানলে ক্ষতি নেই, না জানলেও ক্ষতি নেই)

স্লিপিং প্যারালাইসিস শুধু রাতেই নয়, দিনেও হতে পারে। এটি তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের বেশি হয়। স্লিপ প্যারালাইসিস কয়েক মিনিটের জন্য হয়, ম্যাক্সিমাম ১-৩ মিনিট। যারা কখনও ভূতের নাম শোনেনি বা জানেনা তারা স্লিপিং প্যারালাইসিসের সময় কিছুই দেখতে পায়না। এটি শুধু বিছানাতেই নয়, যে কোন জায়গাতেই ঘুমানোর ফলে হতে পারে। ঘুমের মধ্যে শরীর হঠাৎ ঝাঁকি দিয়ে ওঠা স্লিপিং প্যারালাইসিস নয়।

ঈশ্বরের পুনরুত্থান

অর্জুনের ছায়া অামার একটুও পছন্দের নয়।
তবুও অামাদের স্যাঁতসেঁতে উঠোন জুড়ে
সকাল হলেই ঘাড় উঁচু করে দাঁড়ায়
কয়েকটি অর্জুন গাছ ও গাছের ছায়া !

অভিশপ্ত গাছগুলো বেলা বাড়লে সূর্যকে অন্ধ করে দিয়ে
প্রেতপুরীর মতো শুনশান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
বিকেল হওয়ার অাভাসের সাথে বাড়তে থাকে ড্যাম্প দেয়ালের ভ্যাপসা গন্ধ।
উটকো অার প্রাচীন পুরোতন….

অামি অামার প্রায় পুরোনো পনিক্স সাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি কৌশিকদের বাড়ির দিকে।
ওর সাথে অামার পরিচয় কলেজের প্রথমদিকের দিনগুলোতে..
অামাদের মিছিলের প্ল্যাকার্ডে লাল কালির স্লোগান লেখার জন্য ডাক পড়তো …
গোটাগোটা হরফে ক্ষুরের মতো স্লোগান লিখতে পারতো ও…
মিছিলের ফাঁকে-ঝোঁকে অামরা পেতে ফেলি
চা সিঙ্গারা অার অাড্ডার সম্পর্ক।

বিকেলে ঘুরতে বের হলে সাইকেলের প্যাডেলে
ওর-ই বেশি পা চলে।
অামি পেছন বসে বসে গুনগুন করি।
কখনো উদ্ভট প্রশ্ন করে হকচকিয়ে দেই,
কখনো কখনো তাড়া দেই দ্রুত চালানোর,
সে চালায়…
মাঝে মাঝে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
‘রথের উপর এতো তাড়া কিসের?’

রূগ্ন দেহে বড় বড় শ্বাস ফেলে
কৌশিক চলে রহমতখালির পাড়ে…
নদীটার ছোট ঘাট,
কিছুদূর পেরুলেই ছোট্ট একটা শশ্মান।
সেখানেরই এক অশ্বথ গাছের তলে
অামাদের প্রাত্যহিক তীর্থস্থানীয় অাড্ডা।

অামরা দুজন,তিনজন,তিন-চারজনের
অাড্ডাগুলোতে গাম্ভীর্যপূর্ণ সবক’টা বিষয়ে অালোচনা চলে…
ভোট অাগে না ভাত অাগে?এ জাতীয় বিষয়গুলোও জায়গা করে নেয় কালেভদ্রে।
কৌশিক প্রায় বিরক্তর সুরে বলে,
‘এতো বাল-ছাল বুঝিনা।অামাকে শুধু বুকভর্তি নিকোটিনের ভালোবাসা দিলেই হবে।’
তরতাজা অক্সিজেনে,ভুল করে ডাঙ্গায় উঠা মাছের মতো বড্ড ছটফটে লাগে..

ওর অাক্রোশের লেবাসের অনেক কথা অার
কথার কথা অামরা একটুও বুঝি না,
তাকে বাধাও দেই না।
এইতো সেই দিন-প্রেমিকাকে নিয়ে লেখা একটা দীর্ঘ কবিতার পাণ্ডুলিপির উপর সুঁইফোটা অাঙ্গুল থেকে রক্তের ফোঁটা ফেলে শপথ করেছিলো,
‘অার কোন দিন, কোন কবিতাই লিখবে না।’
ওর অদ্ভুত অাচরণের কিছুই অামরা বুঝি না,তাকে বাধাও দি না…
যেমন অনেকটা সময় চুপচাপ থাকার পর,
অাজ অাবার বিড়বিড় করে বলছে,
‘ইশ্বরপুত্র যিশু মারা যাচ্ছে অসুরের অশুভ অাত্মার ভেতর..
ইশ্বরপুত্র যিশুর পুনরুত্থান হচ্ছে ভীতুর ভয়ের ভেতর।’

দূর কোথাও মোম জ্বলা মসজিদ, সন্ধ্যার অাজানের মৃদু ধ্বনি ভেসে অাসছে…
কল্যাণের জন্য এসো,সালাতের জন্য এসো।

অাকাশ থেকে হঠাৎ তুফানে বৃষ্টি;
ভাদ্রের এই সন্ধ্যায় অামি,কৌশিক,অশ্বথ গাছ অার পনিক্স সাইকেলটি অাটকা পড়লাম।
কৌশিক ওর শান্তিনিকেতনী ব্যাগ থেকে একটা পুরোনো কবিতার খাতা বের করে
পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ছিঁড়ে মেলে ধরছে বৃষ্টির দিকে।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে বিড়বিড় করে বলছে,
‘নে পড় পড়,তোদের জন্যই তো লিখি;পড় পড় …’

This article has been published by Kamran H Raju,Author,Boikhadok academy//https://www.facebook.com/mkh.raju.5//

বই পড়ার বিরুদ্ধে

আমাদের দেশে ট্রেনে-বাসের যাত্রীদের, পার্কে অবসর সময় কাটাতে আসা মানুষকে প্রকাশ্যে বই পড়তে দেখেন কি? বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা আমাদের নিত্যজীবনের রুটিনে বাঁধা। এই অপেক্ষার সময় বই পড়ার অভ্যাস খুব একটা দেখা যায় কি? ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুরু হলে ঘটা করে বই পড়া এবং কেনার যে উচ্ছ্বাস সেটা ক্ষণস্থায়ী, বই পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষদের মনে বরং আছে একটা তীব্র বিরুদ্ধতা, আছে জনমানসে বইপড়ুয়াদের প্রতি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব। দুপাতা বই পড়া বিদ্যা দিয়ে তো দুনিয়া চলে না। দুনিয়া আসলে চলে কী দিয়ে? অতি বাস্তববাদী সাংসারিক মানুষ চাল-ডাল-তেল-নুনের হিসাব-নিকাশ করে চলতে গিয়ে বই পড়াকে বিলাসিতা মনে করে। সাংসারিক মানুষ জীবনযুদ্ধের নিত্য কাজে যা জানে বই পড়–য়ারা তাদের সেই জাগতিক জ্ঞানের কাছে দুগ্ধপোষ্য শিশু।

জাতি হিসেবে বই পড়ার ব্যাপারে আমাদের প্রবল অনীহা। আমাদের প্রাত্যহিক পারিবারিক জীবনে বই পড়ার বিরুদ্ধে অভিভাবকরা। বিচিত্র পাঠাভ্যাস মোটামুটিভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। বইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের আছে একশ একটা অকাট্য যুক্তি। বই পড়া মানে সময় নষ্ট। বই পড়া আমাদের জীবনে এক নিরানন্দ একঘেয়ে কাজ, যেটি আমরা শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য করি, চাকরি পাওয়ার জন্য করে থাকি। পরীক্ষা আর চাকরির প্রয়োজন না থাকলে কে বই পড়ত? স্বেচ্ছায় মনের আনন্দে কে বই পড়ে? কবিতা মুখস্থ করে দাঁড়ি, কমাসহ লেখার বুদ্ধি কোন প্রতিভাবানের আল্লাহ মালুম। তরুণ মনের কবিতা পড়ার আনন্দকে এভাবে অঙ্কুরেই বিনাশ করে দেয় স্কুল। স্কুলজীবন থেকেই বই-পুস্তককে শিশুদের জীবনে এক দুর্বিষহ ভার হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কাউকে ভয় দেখানোর সময় হুমকি দিয়ে বলি ‘তোকে এমন শিক্ষা দেব না, যে বাপের নাম ভুলে যাবি’, ‘এই নিয়া তোমারে পড়ানো হবে’, ইত্যাদি। পড়ানো, পড়া এই ক্রিয়াগুলো আমাদের মনের ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়েছে।

‘পড়ানো’ একটা সহিংসতা আর পাঠক নিষ্ক্রিয় ভিকটিম। এতে ক্ষমতাবান পড়ায়, পড়ে ক্ষমতাহীন। তাই কেউ কিছু জানাতে চাইলে আমরা আক্রান্ত হই, ক্ষেপে যাই, ‘আমাকে শেখাতে আসছিস?’ আমাদের আত্মসম্মানে লাগে। তদুপরি ‘পড়া’ ক্রিয়াটি এ দেশে এলিট সংস্কৃতির প্রতীক, তাই তা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির আধিপত্যের প্রতীক। পড়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তাই এ দেশে বিপ্লবী বোলচালে ঢুকে আছে। সবচেয়ে বড় কথা, পড়ার স্ফূর্তিটা নেই। বই পড়ার বিরুদ্ধাচরণ সংস্কৃতির গভীরে শেকড় ছড়িয়ে ফেলেছে। তাই পড়ার বিরুদ্ধতার সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলা বলতে গিয়ে নিজেই বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং একঘেয়ে পুস্তকের কীট সাব্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিতে হয়। সেই ঝুঁকিটা আমাদের কাউকে না কাউকে নিতে হবে।

বই পড়ার, পাঠক গড়ার সামাজিক আন্দোলনকে আমাদের দেশের অনেক বিপ্লবীর না-পছন্দ। বই পড়ে সমাজ বদলায় না, মানুষ বদলায় না, জাতি গঠন করা যায় না। আজকে ক্যাপিটাল পড়লে কালকেই আপনাকে সমাজবিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নয়া উদারবাদী সমাজে বই আর দশটা পণ্যের একটি ছাড়া আর কিছুই নয়, তাই বই পড়ার সঙ্গে মানস গঠনের কোনো সম্পর্কও নেই। আর দশটা পণ্যের ভোক্তা হতে কোনো বাধা নেই, বাধা শুধু বইয়ের বেলায়। অন্য পণ্যের কাছ থেকে তো সমাজবদলের আকাক্সক্ষা রাখেন না, তাহলে বইয়ের কাছে রাখেন কেন? আপনি অলস, অকর্মণ্য, অপদার্থ, আপনি চেয়ার থেকে নড়বেন না, আপনাকে নড়াবে বই? বইয়ের মতো একটি জড়বস্তুর কাছে এত উচ্চাশা কেন? আপনি চিন্তার সুযোগ কীভাবে তৈরি করছেন? আপনার সক্রিয়তা কই? একে অপরের চিন্তার সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তায় বই না রেখে কী রাখতে চান? চিন্তার যোগাযোগে বই ছাড়া আর কোন কোন বাহনের আশ্রয় নেবেন? এর কী জবাব হতে পারে আমার জানা নেই। একবার আমি ‘জীবন বদলে দেওয়া মহামূল্যবান ১০টি বই’ এমন একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেছিলাম। আমার এক বন্ধু মন্তব্য করল, বই জীবন বদলে দিতে পারে এসব হাস্যকর কথা। কথাটা খুব অযৌক্তিক নয়। আপনি যেদিন বদলানোর জন্য প্রস্তুত, সেদিন হামানদিস্তাও আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। যেদিন আপনি প্রস্তুত নন, সেদিন কোরআন-পুরাণ-বাইবেল-ক্যাপিটাল-মহাভারত-অরিজিন অব স্পিসিস-ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস-কোনোটাই আপনার অন্তরের গুহায় প্রবেশ করতে পারবে না। আপনি যে সক্রিয় পাঠক নন, তার দায় বইয়ের কেন হবে?

অলসভাবে বই পড়ার পরিবর্তে অলসভাবে টিভি-ভিডিও দেখলে কিন্তু কেউ আক্রান্ত বোধ করে না। আপনি জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারেন, ফেইসবুকে লাইক গোনার সময় পাবেন, ইউটিউবে আপনার নানা ধরনের গসিপ ভিডিও দেখার সময় আছে, বাজার করার সময় আছে, বিল দেওয়ার সময় আছে, বাচ্চার স্কুলের সামনে চাদর বিছিয়ে প্যাঁচাল পাড়ার সময় আছে, কিন্তু বই পড়ার সময় নেই। বই পড়বে শুধু আঁতেলরা। শ্রমিক-কৃষক, কেরানি, সাধারণ শিক্ষার্থী, গৃহিণী, মুদি দোকানদার, দর্জি, কাজের বুয়া বই পড়বে না। কেন? আমজনতা বই পড়বে না কেন? বাংলা ভাষায় রচিত রান্নার বই থেকে শুরু করে, ব্যায়াম, ঘরসাজানো, ফ্যাশন, ডায়েট, জলবায়ু পরিবর্তন, আত্মজীবনী, ভ্রমণ-কাহিনী, শিশু-কিশোরদের গল্প, জীবনযাপন, ইতিহাস, দর্শন, উপন্যাস, গল্প, কবিতা বিচিত্র বিষয়ে বই পড়া আমজনতার খাদ্যতালিকায় আসা সম্ভব নয় কেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে বই পড়ার সংস্কৃতি থাকতে পারত। কিন্তু হায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিও বই পড়ার বিরুদ্ধে। বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, বিশ্ববিদ্যালয়েও খুব সামান্য মানুষ পড়ে। পরীক্ষা, প্রমোশন, পাবলিকেশন, কনসালট্যান্সি ছাড়া পড়ার আর কোনো প্রণোদনা নেই। যারা পড়ুয়া, বন্ধুরা তাদের হয় এক ধরনের তাচ্ছিল্য করে অথবা ভয় পায়। শিক্ষকতায় যোগ দিতে চাওয়া শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি শিক্ষার্থীরা নিজের সক্রিয় পাঠাভ্যাসে নিজের জানা-বোঝা গড়ে তোলার কোনো প্রেরণা খুঁজে পায় না। অধিকাংশ পড়ুয়া বিসিএসের বই ছাড়া আর কোনো বই জীবনে কাজে লাগবে মনে করে না। সেমিনার রুমে যে শিক্ষার্থী পড়তে চেষ্টা করে, তাকে বন্ধুদের হাতে এক ধরনের লাঞ্ছিত হতে হয়। আমি দেখেছি, যারা পড়ে, তারা বন্ধুদের সঙ্গে নিজের পড়ার বিষয়টি গোপন করে। বই হাতে সেমিনারে, শিক্ষক লাউঞ্জে, বাসে, মাঠে, বেঞ্চিতে কোথাও বসে শান্তি পাবেন না। বই হাতে দেখলেই লোকে আপনাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে ছাড়বে : কী বই পড়েন? গল্পের বই? না পড়ার বই? বুঝতে চেষ্টা করে, এখানে বসে আপনি পড়ছেন কেন? আপনার কোনো কাজ নেই? প্রকাশ্যে কেউ বই পড়লে আশপাশের লোকরা হঠাৎ আক্রান্ত বোধ করে। প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করলে আক্রান্ত বোধ করে কি? কেউ বেশি জেনে ফেলতে পারবে না, কারও কাছ থেকে জানা-বোঝা-শেখারও কোনো প্রয়োজন আমার নেই। কোনো গম্ভীর বিষয়ে আপনি আলাপ করবেন না, রসাত্মক-তির্যক মন্তব্য করবেন না, সারাক্ষণ মাথা নাড়বেন, হে হে আর ফাতরামি করতে থাকবেন। আপনি যে একজন বিদগ্ধ ব্যক্তি, শিল্প-রসিক, সাহিত্যে আপনার অগাধ জ্ঞান, আপনি যে নিজেই একজন প্রাজ্ঞ দার্শনিক, ভাবুক, বক্তা, কবি, তাকে লুকিয়ে আপনার সবচেয়ে ঘিয়ে ভাজা আটপৌরে চেহারাটা নিয়ে জনসম্মুখে হাজির হলেই সামাজিক আলাপচারিতায় ‘বেইল’ পাবেন। জাতি হিসেবে আমরা বই পড়ার বিরুদ্ধে।

লেখক-

সহযোগী অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!

লক্ষীপুরের রামগঞ্জে ছাত্রলীগের ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ

এস এস সি পরীক্ষা উপলক্ষে রামগঞ্জে ছাত্রলীগের ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগ।রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা মামুন আল রশিদ রুবেলের উদ্যোগে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকগনের জন্য বিশ্রামের স্থানের ব্যবস্থা, মিনারেল পানি ও অন্যন্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছিলো আজ।

উপজেলার “রামগঞ্জ এম ইউ উচ্চ বিদ্যালয়” কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়।।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বাইরে অপেক্ষয়মান অভিভাবকদের জন্য কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা না থাকায়, পরীক্ষার দিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় অভিভাবকদের।।

উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের জয়পুরা এস.আর.এম.এস. উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আশা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, পরীক্ষার দিন পুরুষরা, বাজারে চা দোকান গুলোতে বসতে পারলেও মহিলাদের দাড়িয়েই থাকতে হয় পুরোটা সময়, ছাত্রলীগ নেতা মামুন অাল রশিদের এই কাজটি সত্যি ই প্রশংসনীয়।।
লক্ষীপুর জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুন অাল রশিদ রুবেল জানায়, যেকোন মানবিক কাজে ছাত্রলীগ সবসময় এগিয়ে আসে এবং অাসবে । ছাত্রলীগ সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধায় পাশে থাকবে।
মামুন অাল রশিদ রুবেল তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজিতে অনার্স শেষ করে বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজে এল এল বি তে অধ্যায়ন করছেন।

তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী।

This article has been published by Kamran H Raju,Author,Boikhadok academy!

/https://www.facebook.com/mkh.raju.5//

Vaping Harms Vasculature, Even Without Nicotine

•In a small group of healthy young people who did not smoke or vape, vaping one nicotine-free electronic cigarette (e-cigarette) produced transient changes in blood vessels similar to those seen in early atherosclerosis, a study found.

The acute changes seen after one-time vaping — inhaling and exhaling the vaporized aerosol mist from the heated liquid in a battery-operated e-cigarette — suggest that repeated vaping would lead to chronic vascular endothelial dysfunction, the authors of this MRI study say.

The study, by Alessandra Caporale, PhD, a postdoctoral researcher from the Laboratory for Structural, Physiologic and Functional Imaging, Department of Radiology, University of Pennsylvania Perelman School of Medicine, Philadelphia, and colleagues, was published online August 20 in Radiology.

1_pretty-young-hipster-woman-vape-ecig-vaping-device-at-the-sunset-toned-image436015869.jpg

 

The study used nicotine-free e-cigarettes; therefore, the findings shatter any mistaken belief that it is only the nicotine in e-cigarettes that is harmful to health.

“Endothelial dysfunction — the inability or reduced ability of the vasculature to expand to allow for increase in blood flow when needed — is the earliest stage of atherosclerosis pathogenesis,” senior study author Felix W. Wehrli, PhD, director of the Laboratory for Structural, Physiologic and Functional Imaging and professor at the University of Pennsylvania, told Medscape Medical News in a joint interview with Caporale.

“The harms of cigarettes are obviously well known,” Wehrli summarized, “but what was not well known [and what was shown in this study] was that e-cigarettes — even though advertised as comparatively unharmful — may actually ultimately cause harm similar to cigarettes and unrelated to nicotine.”

Parents of middle school and high school students, whose e-cigarette use has increased dramatically, should be aware of these harms, Wehrli and Caporale stressed.

The many flavors that e-cigarettes come in “attract young people and potentially attract them to potential life-long addiction,” Caporale said. She noted that some e-cigarettes contain more nicotine than what is stated on the label.

Not as Benign as Some Believe

Similarly, Karen M. Wilson, MD, MPH, a pediatrician at Icahn School of Medicine at Mount Sinai, New York City, who was not involved with the study, told Medscape Medical News that “there has been this narrative that electronic cigarettes create this harmless ‘water vapor,’ ” thereby making them useful for adults who want to quit smoking.

But “what we’re really starting to understand” is that in addition to nicotine, the aerosol contains other potentially toxic particles, she said.

According to Wilson, although it is unknown what the effects will be after 20 or 30 years, this study suggests that, as with smoking, “we are likely to see an increase in cardiovascular disease” from vaping.

Importantly, “some of these vascular changes in the lungs or the direct irritation from those toxins and particulates in the aerosol [may be] what’s precipitating” the recently seen cluster of cases of severe lung disease in young people who had been vaping, Wilson said.

As recently reported, from July through August 8, there were 12 confirmed cases and 13 cases under investigation of teens and young adults in Wisconsin who were hospitalized for severe lung problems after vaping.

 

Newer e-cigarette models, such as the Juul (Juul Labs), that have nicotine salt make it easier to inhale higher concentrations of nicotine, Wilson pointed out. “By the time [young people] recognize that it’s dangerous, they’re already addicted.”

Importantly, the current study shows that “even without the nicotine, [e-cigarettes are] still harmful,” she stressed, adding that there is no need to inhale anything except air or, if needed, a medication, such as albuterol for asthma.

Similarly, Deepak L. Bhatt, MD, MPH, a cardiologist at Brigham and Women’s Hospital and a professor at Harvard Medical School in Boston, Massachusetts, told Medscape Medical News, “Vaping is growing among young people at an alarming rate, and the widespread belief among them is that this is safe for health.” Bhatt was not involved with the study.

However, “this study demonstrates that these aerosols do negatively impact markers of endothelial function as assessed by MRI and adds to the growing literature that vaping is bad for cardiovascular health.

“Unfortunately, the full clinical impact of vaping will not be known for several years,” he noted.

Effect of Aerosols on Blood Vessels

The e-liquid in e-cigarettes contains propylene glycol, glycerin, flavorings, and different amounts of nicotine. When heated, the aerosol that is formed contains formaldehyde and acetaldehyde (probable carcinogens) and tiny metal particles (likely from the heating element).

Once inhaled, these substances reach the lung alveoli, where they are taken up by blood vessels and can cause systemic oxidative stress and inflammation, as reported in studies of e-cigarettes that contain nicotine, the researchers write.

To investigate this in e-cigarettes without nicotine, Caporale and colleagues performed an MRI study in 17 men and 14 women who were 18 to 35 years old. The participants had never smoked or vaped. Their body mass index was 18 to 35 kg/m2, and they had no overt cardiovascular or neurovascular disease.

Under supervision, the participants took part in a “vaping challenge” in which they inhaled for 3 seconds (with no coughing or swallowing of the vapor) 16 times, using a disposable e-cigarette (Eco series; Epuffer) that contained propylene glycol, glycerol, and flavor but no nicotine. A 3.7-volt battery operated the e-cigarettes.

The participants underwent MRI scanning of the superficial femoral artery and vein, the superior sagittal sinus, and the aorta before and after the vaping challenge.

The researchers determined flow-mediated femoral artery dilation and femoral vein oxygen saturation by constricting the blood vessels of the upper leg using a cuff, and then releasing the cuff.

“The blood flow is completely disrupted for the femoral artery and vein for a few minutes, and then it is released, and then blood will shoot through the artery and return to the heart through the veins,” Wehrli explained.

The researchers also assessed the cerebrovascular reactivity of the sagittal sinus using a breath-hold test, in which the participants held their breath for 30 seconds and breathed normally for 2 minutes three times.

 

MRI imaging was used to determine aortic pulse wave velocity.

nintchdbpict000512289859-990x6601713891995.jpg

A comparison of pre- and post-vaping MRI data after a single vaping challenge yielded the following results:

a 34% reduction in femoral artery flow–mediated dilation and a 25.8% reduction in blood flow acceleration (P <. 001 for both), indicating endothelial dysfunction;

a 20% reduction in oxygen saturation of the femoral vein (P < .001), indicating microvascular impairment; and

a 3% increase in aortic pulse-wave velocity (P = .05), suggesting aortic stiffening.

There were no statistically significant differences in the cerebrovascular reactivity of the sagittal sinus (P = .08).

“Even though 31 is not a very big number [of participants], the effects we observed [were] highly statistically significant,” Wehrli emphasized.

Related Studies Support Current Findings

It would be unethical to perform this experiment using tobacco cigarettes in nonsmokers, Wehrli noted.

However, the team previously conducted a study that showed similar harmful vascular effects in long-term cigarette smokers.

In addition, another study they recently conducted demonstrated that nicotine-free e-cigarette vaping caused a transient increase in serum markers of inflammation (C-reactive protein) and oxidative stress, which peaked 1 to 2 hours after vaping and returned to baseline within 6 hours. These results support the imaging findings in the current study.

  • This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!

বুক রিভিউ : আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল

বই পর্যালোচনাঃ আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল
লেখকঃ নিয়াজ মেহেদী
মুদ্রিত মূল্য ১৪০ টাকা।
বাতিঘর প্রকাশনি ।

প্রতিটা মানুষের জীবন গল্পময়। প্রত্যেকের কিছু নিজস্ব গল্প থাকে ।
জীবনের সরল-সোজা গল্প ছাড়াও কারো কারো থাকে অদ্ভুদ/ব্যাখ্যাহীন কিছু গল্প ।
স্বভাবতোই মানুষ গল্প শুনতে ভালোবাসে , কেউবা নিজের গল্প বলতে ভালোবাসে।
কিন্তু কিছু গল্প থাকে যা কখনই কাউকে বলা হয়ে উঠে না , হয়ত তা বলার মতও না ।
আপনি কোন গল্পটা বলবেন ? আপনার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুদ আর অস্বাভাবিক গল্পটা বলার জন্য যদি কখনো আপনাকে বাধ্য করা হয় ……

থ্রিলার গল্প লেখক নিয়াজ মেহেদীর প্রথম উপন্যাস “আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল” ২০১৮ সালের বই মেলায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে তার এই বইটি প্রকাশিত হলে খুব আলোচিত হয়ে ওঠে বইটি ।
অকাল প্রয়াত বন্ধুর কবরে দু-মুঠো মাটি আর বন্ধুর প্রিয় ফুল ‘রডোডেনড্রন’ দিয়ে আসতে উত্তরবঙ্গে রওনা দেয় অরিন্দম । বন্ধুচক্রের অন্য সকল বন্ধু জাগতিক সকল কার্যক্রমে ব্যাস্ত থাকার কারনে সে একাই যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
অনেক গভীর রাতে পলাশবাড়ি নামক একটা বাজারে পৌছায় সে। জনবিরল বাজারটি তার কাছে বেশ অদ্ভুদ ঠেকায়। চরম অদ্ভুদ লাগে বাজারে থাকা গুটি কয়েক মানুষের আচরনও। মূল রহস্য শুরু হয় এই বাজার থেকেই।
ঘটনাক্রমে অরিন্দমের সহ আরো পাঁচ জনকে জড় করা হয় এক রহস্যময় হোটেলে।হোটেলের মালিক জনাব আওলাদ মিয়ার অদ্ভুদ এক খায়েশ পূরন করতে হবে তাদেরকে।

বইটির লেখক গল্পের স্বাভাবিকতা আর শ্রেনীগত বৈশিষ্ট ধরে রাখতে মাঝেমধ্যে আঞ্চলিকতার ব্যবহার করেছেন। যার জন্য দু-একটা জায়গায় বইটি পড়তে আপনার অসুবিধা হতে পারে অথবা লেখকে ভাষাটা খুব আপন মনে হতে পারে। বইটি পড়ার সময় আপনার মনে হবে , আপনি লেখকের সাথে কোন এক আড্ডার ভরা মজলিশে বসে আছেন।
সব শেষ বলতে চাই, নতুন লেখক হিসেবে বইটি আপনাকে আশাহত করবে না ।

This article has been published by Kamran H Raju//https://m.me/mkh.raju.5//Facebook!!

ব্যান্ডকথন:Nemesis!!

নেমেসিস (Nemesis)

১৯৯৯ সালে গঠিত বাংলাদেশের একটি অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড। এই ব্যান্ডের তিনটি স্টুডিও অ্যালবাম আছে। ২০১১ সালে বের হওয়া তাঁদের দ্বিতীয় অ্যালবাম শিরোনাম “তৃতীয় যাত্রা” এবং ২০১৭ সালে বের হয় তাদের তৃতীয় অ্যালবাম শিরোনাম “গণজোয়ার”

ইতিহাস-

১৯৯৯ এর গ্রীষ্মে নেমেসিস গঠিত হয়েছিল।সেসময় ব্যান্ড সদস্যরা কেবল বিদ্যালয় শেষ করেছে। সাবের মাহের খান ও ইয়ারকে একসাথে করে ব্যান্ড গঠন করে। তাঁরা থার্টি ফার্স্ট নাইটের এক প্রোগ্রামে প্রথম পারফর্ম করেন। সেখানে তাঁদের ব্যান্ড দলে যোগ দেন জোহাদ।

(১৯৯৯-২০০২ )

সাবিন ২০০০ সালে ব্যান্ড ছেড়ে চলে যান। যাবের তাঁর বন্ধু নন্দিত ও কাজিন রাতুল কে রিদম ও বেজ বাজাতে নিয়ে আসেন। এই ব্যান্ড বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডজগতে সাড়া ফেলে, একটি ফ্যান বেজ গড়ে তোলে এবং কভার ব্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

(২০০২- বর্তমান)

২০০২ সালে যাবের এবং নন্দিত বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জোহাদ দিপু ও ওমাইরকে নিয়ে আসেন।২০০১ সালে এই ব্যান্ড তাঁদের প্রথম এ্যালবামের কাজ শুরু করে। যাবের ও নন্দিত প্রত্যেক গ্রীষ্মে দেশে ফিরলে তাঁরা গানের রেকোর্ডিং করে। ২০০৩ সালে “অবচেতন” নামে একটি একক গান মিক্সড এ্যালবাম “আগন্তুক-২” এ প্রকাশ করেন। এই গানটার মাধ্যমে তাঁরা ব্যাপক সাড়া পায় এবং জিসিরিজের সাথে তাঁরা প্রথম এ্যালবাম প্রকাশের ব্যাপারে চুক্তি করে।

অন্বেষণ (২০০৫)

অন্বেষণ আর্ট অব নয়েজ স্টুডিও ও বেজবাবা সুমনেরবাসায় রেকর্ড হয়েছি। এই এ্যালবাম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।[২] যাবের ২০০৫ সালে ব্যান্ড ছেড়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে চলে যান। নন্দিত এ্যালবাম প্রকাশের পর কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ডিও ও ওমাইর স্থায়ী সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন।

ধুসর ভাবনা (২০০৬) এবং জয়ধ্বনি(২০০৬) প্রকাশিত হওয়ার পর নেমেসিস মূলধারায় স্বীকৃতি পায়। এই একক গান দুইটি ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৮ সালের রেডিও ফুর্তি সেরা একশ একক গানের তালিকায় স্থান পায়।

তাঁদের গাওয়া মৃত্যুছায়া(২০১০) গানটি রেডিও ফুর্তি ২০১০ সালের সেরা গানের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়।

তৃতীয় যাত্রা (২০১১)

নেমেসিস ৬ বছর পরে তাঁদের দ্বিতীয় এ্যালবাম “তৃতীয় যাত্রা” মুক্তি দেন। প্রথম গান “কবে” প্রথমে বিভিন্ন রেডিও স্টেশনে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।স্টুডিও বাংগির প্রযোজনায় নভেম্বরে এই গানের মিউজিক ভিডিও বের হয়।[এই এ্যালবাম ২৩শে নভেম্বর বেইলি রোডে ক্যাফে ৩৩ এ মুক্তি দেওয়া হয়।[৯] তৃতীয় যাত্রা ২০১১ সালে সমলোচক ও জনপ্রিয়তা দুই বিভাগেই সেরা ব্যান্ড পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তাঁদের গান “কবে”-এর মিউজিক ভিডিও সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ডের সেরা ভিডিও-এর জন্য মনোনীত হয়। ২০১২ এর মাঝামাঝি, মাহের খান ও ওমাইর খান ব্যাক্তিগত কারণে নেমেসিস ছাড়েন। ভক্তরা এই খবর শুনে ব্যথিত হয়। মাইলসের মানাম আহমেদের দুই পুত্র জেরিফ আহমেদ এবং জেহীন আহমেদ নেমেসিসের নতুন সদস্য হন।

গনজোয়ার (২০১৭)

২০১৭ সালে ১০ মে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে নেমেসিসের তৃতীয় এলবাম গনজোয়ার মুক্তি পায়।গনজোয়ারের নামের এই এলবামের গানগুলো কাইনেটিক মিউজিকের মাধ্যমে অনলাইনে পাওয়া যায় এবং এই এলবামটি অন্যান্য এলবাম থেকে বেশি সাড়া পায়।এবং অতিদ্রুত গরম কেকের মতো বিক্রি হয়।যা ছিল নেমেসিস ব্যান্ডের জন্য খুবই ভালো সংবাদ।

সামাজিক কর্মকান্ড –

নেমেসিস বিভিন্ন দাতব্য শোতে অংশ নেয়। উল্লেখযোগ্য কনসার্টগুলোর মধ্যে আছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে ২০০৮ সালে ‘সে নো টু ড্রাগ’ কনসার্ট, ২০০৯ সালে ধানমন্ডি এম্ফিথিয়েটারে ‘সেইভ দ্যা চিলড্রেন’ ও ‘স্ট্যান্ড আপ এগেইন্সট পোভার্টি’ কনসার্ট, ২০১০ সালে আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ভোট ফর সুন্দরবন’ কনসার্ট। তাঁরা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিকভারি ডেভেলপমেন্ট সংস্থার আয়োজনে পথশিশুদের জন্য একটা কনসার্ট করেন। সেই প্রোগ্রামের অর্ধেক অর্থ সাভার ভবন ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হয়।

বর্তমান সদস্য –

জোহাদ রেজা চৌধুরী – ভোকাল (১৯৯৯-বর্তমান)

রাকুইবান নবি রাতুল – বেজ, ভোকাল (১৯৯৯-বর্তমান))

ডিও হক – ড্রাম (২০০৪-বর্তমান)

জেরিফ আহমেদ – গিটার, ভোকাল (২০১২-বর্তমান)

জাফির হক – গিটার (২০১৩-বর্তমান)

সাবেক সদস্য-

সাবির আহমেদ – ব্যান্ড ম্যানেজার (১৯৯৯-২০০১)

মাহের খান – গিটার, ভোকাল (১৯৯৯-২০১২)

সাবিন খান – বেজ (১৯৯৯-২০০১)

ইয়ার মেহবুব – ড্রাম (১৯৯৯-২০০৫)

নন্দিত নূর – গিটারিস্ট (১৯৯৯-২০০৫

ওমাইর খান- গিটারিস্ট(২০০১-২০১২)

জেহীন আহমেদ – গিটার, ভোকাল (২০১২-২০১৩)

এ্যালবাম ও গানের তালিকা-

স্টুডিও এ্যালবাম-

অন্বেষণে(২০০৬)

তৃতীয় যাত্রা (২০১১)

গনজোয়ার(২০১৭)

সংকলিত এ্যালবাম

আগন্তুক -২ (২০০৩)

লাইভ নাউ (২০০৭)

আন্ডারগ্রাউন্ড ২ (২০০৭)

একক অ্যালবাম-

অন্বেষণঃ

১ বিবর্ণ স্রষ্টা
২ নেই সমাধান
৩ অন্বেষণ
৪ Gone
৫ অবচেতন
৬ মৃত্যুছায়া
৭ সম্ভাবনার পথে
৮ না” ঘুমানোর গান
৯ New Day
১০ স্বপ্নছবি
১১ Release Key

তৃতীয় যাত্রাঃ

১ কবে
২ বীর
৩ তৃতীয় যাত্রা
৪ কল্পরাজ্য
৫ এগিয়ে নাও
৬ অ-বসবাস
৭ নির্বাসন
৮ Hold On
৯ শেষ গান

গনজোয়ার-

১.গনজোয়ার
২.জানালা
৩.অলস রোগ
৪.কে জানে কে বোঝে
৫.স্বপ্নসুর
৬.তোমার কথা শুনে
৭.ভোর
৮.সময় নেই আমার
৯.হাজার বছর
১০.আবার দেখা হবে

সিঙ্গেল গান

অবচেতন
ধূসর ভাবনা
জয়ধ্বনি
মৃত্যুছায়া
ঘুড়ি
কবে
কোনদিন

তথ্যসূত্র-

1. “Top-100 (Radio) Hits of 2006 ~ All in one”। ২৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬।

2. “Radio Foorti’s TOP-100 of 2007 – Bangali Community”। ২৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূলথেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬।

3. “Nemesis’ 2nd Album ‘Tritio Jatra’ to Hit Stores on 24.11.11″। ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬।
http://www.daily-sun.com//details_yes_15-12-2011_nemesis-emerges-with-tritio-jatra_422_5_31_1_8.html

4.”Nemesis charity show Events”। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৩।

This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!

Elon musk:The iron man

ইলন মাস্ক: সত্যিকারের আয়রন ম্যান

মার্ভেল কমিক্সের রঙিন পাতার টনি স্টার্ককে কে না চেনে? একদিকে তার পরিচয় যেমন বিখ্যাত বিজ্ঞানী-বিলিয়নিয়ার, অন্যদিকে লালরঙা লৌহ বর্মে আবৃত হওয়ামাত্র পৃথিবীবাসীর জন্য সে আয়রনম্যান। ফিকশন কমিক্সের পাতায় আয়রনম্যান যেমন বিজ্ঞানের সকল অসম্ভবকে তার জেটপ্যাকে ভর করে সম্ভবপর করতো, ঠিক তেমনি বাস্তবের পৃথিবীতেও কিন্তু এমন একজনের দেখা মেলে যিনি তাঁর অসাধারণ উদ্ভাবনী বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা দিয়ে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছেন আমাদের চারপাশকে। নাম তাঁর- ইলন মাস্ক।

প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পত্তির মালিক ইলন মাস্ককে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়। বিচিত্র চিন্তাধারার এই মানুষটির আপাদমস্তক জীবনধারা আমাদের অনেক বেশি অনুপ্রেরণার জোগান দেয়। অনেকের মতে হালের ইলন মাস্ক অনেকটাই সেই কেএফসির কর্নেল স্যান্ডারস কিংবা আলিবাবার জ্যাক মা এর প্রতিচ্ছবি, যারা শত ব্যর্থতা পেছনে ফেলে সাফল্যের চূড়ায় আহরণে সক্ষম হয়েছিলেন। ক্ষুদ্র কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে মঙ্গলের লাল মাটিতে প্রাণের বিকাশে পদচারণ- এত লম্বা যাত্রাপথটা কিন্তু মোটেও সুগম ছিলো না। দেখে আসা যাক প্রিটোরিয়ার ছোট্ট এক বালকের বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প-

ছোটবেলার গল্প:

দক্ষিন আফ্রিকান বাবা ও কানাডিয়ান মা এর সন্তান ইলনের পুরো নাম “ইলন রিভ মাস্ক,” জন্ম ১৯৭১ সালে, দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি খুব ঝোঁক ছিল ইলনের। মাত্র নয় বছর বয়সে ঘরে বইয়ের অভাবে তিনি শেষমেষ পড়া শুরু করেন বিখ্যাত এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, যা তিনি একসময় পড়া শেষও করে ফেলেন! স্কুল জীবনে অনেকটাই চুপচাপ ছিলেন তিনি, যাকে আমরা বলি ইন্ট্রোভার্ট। একারণে স্কুল পড়ুয়াবস্থায় প্রচন্ড বুলির শিকার হতেন এবং তাকে একবার হসপিটালেও নেয়া হয়। জীবনের শুরুতেই এত এত মানসিক চাপ কিন্তু কোনোভাবেই তাঁর সাফল্যের অগ্রযাত্রাকে শিকল পড়িয়ে রাখতে পারেনি। মাত্র ১০ বছর বয়সেই সে নিজ থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এ পারদর্শিতা লাভ করেন। ১২ বছর বয়সেই তিনি ব্লাস্টার নামক একটি মজাদার ভিডিও গেম তৈরি করে ফেলেন। মজার ব্যাপার হলো, সেই ভিডিও গেমটি তিনি একটি ম্যাগাজিনের কাছে বিক্রি করে নগদ ৫০০ মার্কিন ডলার আয় করেন!

শিক্ষাজীবন:

দক্ষিন আফ্রিকার আবশ্যিক সামরিক জীবনকে “না” বলে মাস্ক কানাডা পাড়ি দেন উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ পেনিসিলভেনিয়া থেকে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের উপর দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

বলে রাখা ভালো, স্কুল-কলেজে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কমার্স কিংবা আর্টসে পড়াশুনা করতে গেলেও অনেকের মধ্যেই সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্যারিয়ার গড়ার সুপ্ত একটা ইচ্ছা থাকে। তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন ইলন মাস্ক। কেননা তিনি একসময় অর্থনীতির শিক্ষার্থী হওয়ার পরও পরবর্তীতে তিনি কিন্তু বৈজ্ঞানিক কর্মক্ষেত্রেই সফল হতে পেরেছেন।

এনার্জি ফিজিক্সের উপর পিএইচডি করার উদ্দ্যেশে মাস্ক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই তিনি ঠিক করেন যে, পিএইচডি বাদ দিয়ে তিনি ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করবেন এবং ঠিক ২দিন পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট হন।

সফলতার শুরু:

সময়টা ছিল ইন্টারনেটের শুরুর দিকে, বিল গেটসের মতে যা,

“Internet is the new big thing”

ইন্টারনেটের অপার সম্ভাবনাই মূলত ইলন মাস্ককে জিপ টু তৈরিতে অনুপ্রেরণা দেয়, এমন একটি সফটওয়্যার যা শহরের খবরের কাগজের জন্য ইন্টারনেট গাইড হিসেবে ব্যবহার করা হতো। জিপ টু এর সিইও পদের জন্য মাস্ক আগ্রহী হলে তাঁর নিজের কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদই তাঁকে বাঁধা দেয়। ইতিমধ্যে বিখ্যাত টেক কোম্পানি কমপ্যাক জিপ টু কে অধিগ্রহণ করলে মাস্ক পকেটে পুরে নেন ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জিপ টু এর পাট চুকিয়ে মাস্ক নিয়ে আসলেন এক্স ডট কম নিয়ে। এক্স ডট কম কী জানো? আমাদের দেশে বিকাশ-ইউক্যাশের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদানের ধারণাটাই মাস্ক এক্স ডট কমের মাধ্যমে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন মানি ট্রান্সেকশনের মাধ্যম পেপ্যাল এ। ২০০২ সালে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইবে পেপ্যালকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নেয় যা তখনকার সময়ে সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অধিগ্রহণ ছিল। পেপ্যালের ১১.৭ শতাংশ শেয়ার ইলন মাস্কের ব্যাংক একাউন্টে জমা করে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জিপ টু ও এক্সডটকম-পেপ্যাল এর পর মাস্ক কিন্তু চাইলেই মিলিয়নিয়ারের তকমা দিয়ে অনায়েসেই বিলাসী এক জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু মাস্কের স্বপ্নটা ছিল আরও অনেক বড়, আরও অনেক সুদূরপ্রসারী।

স্পেসএক্স দিয়ে মহাকাশজয় :

ইলন মাস্কের ইচ্ছা ছিল, আন্তঃমহাদেশীয় রকেট দিয়ে তিনি ব্যাক্তিগত উদ্দ্যোগে পৃথিবী থেকে মহাকাশে পন্য সরবরাহ করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ, রকেট কেনার উদ্দ্যেশে মাস্ক উড়াল দিলেন রাশিয়ায়। কিন্তু রাশিয়ায় গিয়ে দেখেন যে এক একটি আইসিবিএম (আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র) এর দাম প্রায় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং যা একবারই ব্যবহারযোগ্য। এরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে ইলন মাস্ক হতাশ হয়ে পড়েন। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিকারকেরাও মাস্কের সাথে ঠাট্টা মশকরা শুরু করে। দেশের পথে ফিরে আসার পথিমধ্যেই মাস্ক ঠিক করেন যে তিনি নিজেই স্বল্পমূল্যে এমন সব রকেট বানাবেন যা পৃথিবীর অরবিটের ছাড়িয়ে পাড়ি দিতে সক্ষম এবং একইসাথে যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য। রকেট পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার স্লোগানে মাস্ক যুক্ত করেন,

“এটা পাগলাটে যে, আমরা এসব অত্যাধুনিক রকেট বানাই এবং প্রতি অভিযানের শেষে এগুলো ধ্বংস করে দেই। এটা সত্যিই হাস্যকর।”

২০০২ সালের ৬ই মে ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যক্তিমালিকানাধীন মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স (স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলোজিস কর্পোরেশন)।

স্পেসএক্স দিয়ে শুরুতেও ইলন মাস্ক বাজিমাত করে দিয়েছিলেন, তা ভাবা ভুল। বরং পরপর তিনটি ব্যর্থ রকেট উৎক্ষেপণের পর অনেকে স্পেসএক্স এর অন্তিম সময় দেখে ফেলেছিলেন । তবুও ইলন মাস্ক হাল ছাড়েননি। তিনি নিজের টেকনোলজির উপর শতভাগ আস্থা রেখেছিলেন কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর এই প্রযুক্তির উপর ভর করেই তাঁর স্বপ্ন পারি দিবে মহাকাশে। শত বাঁধা ও ঝুঁকিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-১ এর সফল উৎক্ষেপণ হলো। চাইলেই কিন্তু রবার্ট ব্রুস আর মাকড়শার সেই গল্পটার সাথে আমরা ইলন মাস্ক-স্পেসএক্স এর যোগসূত্র খুঁজে বের করতেই পারি, তাই না?

স্বপ্ন যখন মঙ্গলে:

Elon Musk in 67th International Astronautical Congress
ইলন মাস্ক ছিলেন এমন একজন মানুষ, যার মস্তিষ্ক সবসময়ই ব্যস্ত থাকতো সুদূরপ্রসারী কোনো চিন্তাভাবনায়। ইলন মাস্ক মনে করতেন, মানবজাতির পদচারনা শুধুমাত্র পৃথিবী থাকাটা হাস্যকর, কেননা পৃথিবীর বুকে যেকোনো মহাবিপর্যয়ে নিমিষেই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে। তাই ইলন মাস্ক নিকট ভবিষ্যতেই মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিলেন। মাস্ক মনে করতেন, পৃথিবী থেকে ৫৪.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পারি দেয়ার খরচ যোগানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো রকেট পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। স্পেসএক্স তৈরি করলো ফ্যালকন-৯, ফ্যালকন হেভি, প্রস্তাব দিলো বিএফআর এর মত অত্যাধুনিক স্পেসক্রাফটের। মাস্ক ২০২০-২০২৪ সালের মধ্যে মঙ্গল অভিযানকে বাস্তবে রূপ দিতে চান। আর ফ্যালকন-৯ থেকে শুরু করে আজকের ফ্যালকন হেভি একটা জিনিসই প্রমাণ করে, আর তা হলো ইলন মাস্কের সেই মিশন টু মার্স এখন অনেকটাই বাস্তব। মাস্ক মঙ্গল নিয়ে এতটাই আশাবাদী যে তিনি পৃথিবীতে নয়, বরং মঙ্গল গ্রহে মৃত্যুবরণ করারও ইচ্ছা ব্যাক্ত করেন!

টেসলা, হাইপারলুপ এবং অন্যান্য:

স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার ২ বছর পর ইলন মাস্ক ঠিক করলেন, পৃথিবীর জ্বালানির ঘাটতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক শক্তিচালিত গাড়ির কোনো বিকল্প নেই। তাই তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন টেসলা ইনকর্পোরেটেড, সৌর ও বৈদ্যুতিক জ্বালানি শক্তিচালিত মোটরগাড়ির অনন্য এক প্রতিষ্ঠান। ইলন মাস্ক নিশ্চিত করেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ার টেসলার ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়া প্রতিটি গাড়ি যেন ১০০% পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়।

যদি তোমাকে বলা হয়, ঢাকা থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে তুমি যাতায়াত করতে পারবা মাত্র কয়েক মিনিটে, অবাক হবা নিশ্চয়ই। ইলন মাস্ক এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বলেছেন, যেখানে এসব কিছু সম্ভব। তিনি এর নাম দিয়েছেন হাইপারলুপ। মাটির নিচ দিয়ে লুপের মধ্য দিয়ে চলে হাইপারস্পিডের এক ক্যাপস্যুলের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের দূরত্ব চলে আসবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার।

ইলন মাস্কের নানান উদ্যোগের মধ্যে আরো রয়েছে সোলার সিটি যেখানে মাস্ক পুরো পৃথিবীকে সৌর শক্তির নিচে আনতে চান, ওপেন এআই যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার কাজ করা হয়, নিউরালিংক, গিগাফ্যাক্টরির মত আরো অনেক উদ্ভাবনী ধারনা। কয়েকদিন আগে থাইল্যান্ডের এক গুহায় শিশুদের আটকে পড়ার সময়ে ইলন মাস্ক ফ্যালকন ৯ রকেটের তরল অক্সিজেন সরবরাহ করার টিউব দিয়ে তৈরিকৃত একটি মিনি সাবমেরিন দান করে উদ্ধারকর্মীদের সাহায্য করেন।

কিছু অনুপ্রেরণামূলক উক্তি:

“যে কাজটা করা তোমার জন্য অতি জরুরী, সেটির জন্য অবশ্যই চেষ্টা করা উচিত। এমনকি কাজটির সফলতার সম্ভাবনা শূন্য হওয়া সত্ত্বেও।”

“একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া অনেকটা ওভেনে কেক বেক করার মতো। তোমার নিজের মধ্যে প্রতিটি উপাদান সঠিক মাত্রায় থাকা বাঞ্ছনীয়।”

“জীবনে ব্যর্থতা না আসলে তুমি সত্যিকার অর্থে নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারবে না।”

সমালোচনা:

জীবনে কোনো ব্যক্তি সফল হয়েছেন এবং তিনি সমালোচনার শিকার হননি, এরকম উদাহরন খুঁজে বের করা আসলেই দুষ্কর। যেমনটি ঘটেছে ইলন মাস্কের ক্ষেত্রেও। স্কুল জীবনের শুরু থেকেই তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চোখে যেমন তুচ্ছ ছিলেন, তেমনি সমালোচিত হয়েছেন নিজের বিভিন্ন চিন্তাধারার জন্যও। এমনকি মাস্কের মঙ্গল গ্রহকে নিয়ে এত সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনাকেও অনেকে অহেতুক বলে চলেছেন। কিন্তু খোদ ইলন মাস্ক নিজে এসব বিষয় নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন, বরং তিনি বলেন,

“আমি সর্বদা সমালোচনা খুঁজে বেরাই। তোমার কাজের প্রতি একজন যুক্তিসম্পন্ন সমালোচক স্বর্ণালংকারের মত মূল্যবান।”

পরিশেষে বলা যায়, এত দ্রুতই ইলন মাস্ক পৃথিবীতে যে আমূল পরিবর্তনের ছাপ রেখে যাচ্ছেন, তা সত্যিই সাধারণ সাফল্যের পাল্লায় পরিমাপ করা সম্ভব নয়। বলাই বাহুল্য, “ভবিষ্যতের পৃথিবীর একজন রূপকার কে”- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই যে নামটি এই মুহূর্তে সবার মাথায় আসবে, তিনিই হলেন ইলন মাস্ক। ঠিক যেমন লেখক অ্যাশলি ভ্যান্স রচিত বিখ্যাত “ইলন মাস্ক” বইটির মোড়কেই রয়েছে,

“How the billionaire CEO of SpaceX and Tesla is shaping our future”

তথ্যসূত্র:

https://www.biography.com/people/elon-musk-20837159

https://www.bbc.com/news/av/business-45645422/who-is-elon-musk

http://www.10minuteschool.com

This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!

Alcohol Helps You Speak a Foreign Language Better

People who drank a boozy beverage were more fluent than those who drank water.

Those who dabble in learning a new language sometimes find that alcohol — in moderation — helps them speak more fluently. In a way, that makes sense: It’s been shown that a beer or a glass of wine can lower inhibitions, which may make it easier for some people to overcome nervousness or hesitation.

But on the other hand, alcohol has also been shown to impair cognitive and motor functions, negatively affect memory and attention, and lead to overconfidence and inflated self-evaluations. So do people really speak non-native languages better after drinking, or is that just their liquid courage talking?

To answer that question, British and Dutch researchers conducted an experiment, published this week in the Journal of Psychopharmacology. And it turns out, people in the study really did speak more fluently after a low dose of alcohol — even when they didn’t think so themselves.

The study included 50 native German speakers who were studying at Maastricht University, located in the Netherlands near the border with Germany. All of the people in the study said they drank alcohol at least sometimes, and, because their classes were taught in Dutch, had recently passed an exam demonstrating proficiency in the language.

Each person was asked to have a casual, two-minute conversation with an interviewer in Dutch. Before that chat, half were given water to drink, while the other half were given an alcoholic beverage. The amount of booze varied based on the person’s weight, but for a 150-pound man, it was equivalent to just under a pint of beer.

The conversations were recorded and then scored by two native Dutch speakers who weren’t aware which people had consumed alcohol. The participants were also asked to self-score their own performances, based on how fluently they felt they’d spoken.

Unexpectedly, alcohol had no effect on the speakers’ self-ratings; those who’d had a drink weren’t any more confident or pleased with their performances than those who’d had water.

But they did perform better, according to those who listened to the recordings. Overall, the native Dutch speakers rated people in the alcohol group as having better fluency — specifically better pronunciation — than those in the water group. Ratings for grammar, vocabulary and argumentation were similar between groups.

The authors point out that the dose of alcohol tested in the study was low, and that higher levels of consumption might not have these beneficial effects. After all, they write in their paper, drinking too much can have the exact opposite effect on fluency and can even lead to slurred speech.

And because the people in the study knew what they were drinking, it’s not possible to know whether their speech improved because of alcohol’s biological effects or its psychological ones. (Previous studies have shown that people who think they’re drinking alcohol can experience similar levels of impairment as those drinking the real thing.) “Future research on this topic should include an alcohol placebo condition,” the authors write, “to disentangle the relative impact of pharmacological vs. expectancy effects.”

The study’s findings should also be replicated in other groups of people, they add, to show that the results aren’t unique to native German speakers or to people learning Dutch. At least one other paper supports this theory, though; in a 1972 study, small doses of alcohol improved Americans’ pronunciation of words in Thai.

While the study did not measure people’s mental states or emotions, the authors say it’s possible that a low-to-moderate dose of alcohol “reduces language anxiety” and therefore increases proficiency. “This might enable foreign language speakers to speak more fluently in the foreign language after drinking a small amount of alcohol,” they conclude.

Source-TIME magazine!!

Thank you very much to all readers!!😐

This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!

5 books I loved in 2018-By Bill Gates |

5 books I loved in 2018-By Bill Gates |

If you’re like me, you love giving—or getting!—books during the holidays. A great read is the perfect gift: thoughtful and easy to wrap (with no batteries or assembly required). Plus, I think everyone could use a few more books in their lives. I usually don’t consider whether something would make a good present when I’m putting together my end of year book list—but this year’s selections are highly giftable.

My list is pretty eclectic this year. From a how-to guide about meditation to a deep dive on autonomous weapons to a thriller about the fall of a once-promising company, there’s something for everyone. If you’re looking for a fool-proof gift for your friends and family, you can’t go wrong with one of these.

Educated, by Tara Westover-

Tara never went to school or visited a doctor until she left home at 17. I never thought I’d relate to a story about growing up in a Mormon survivalist household, but she’s such a good writer that she got me to reflect on my own life while reading about her extreme childhood. Melinda and I loved this memoir of a young woman whose thirst for learning was so strong that she ended up getting a Ph.D. from Cambridge University.

Army of None, by Paul Scharre-

Autonomous weapons aren’t exactly top of mind for most around the holidays, but this thought-provoking look at A.I. in warfare is hard to put down. It’s an immensely complicated topic, but Scharre offers clear explanations and presents both the pros and cons of machine-driven warfare. His fluency with the subject should come as no surprise: he’s a veteran who helped draft the U.S. government’s policy on autonomous weapons.

Bad Blood, by John Carreyrou-

A bunch of my friends recommended this one to me. Carreyrou gives you the definitive insider’s look at the rise and fall of Theranos. The story is even crazier than I expected, and I found myself unable to put it down once I started. This book has everything: elaborate scams, corporate intrigue, magazine cover stories, ruined family relationships, and the demise of a company once valued at nearly $10 billion.

21 Lessons for the 21st Century, by Yuval Noah Harari-

I’m a big fan of everything Harari has written, and his latest is no exception. While Sapiens and Homo Deus covered the past and future respectively, this one is all about the present. If 2018 has left you overwhelmed by the state of the world, 21 Lessons offers a helpful framework for processing the news and thinking about the challenges we face.

The Headspace Guide to Meditation and Mindfulness, by Andy Puddicombe-

I’m sure 25-year-old me would scoff at this one, but Melinda and I have gotten really into meditation lately. The book starts with Puddicombe’s personal journey from a university student to a Buddhist monk and then becomes an entertaining explainer on how to meditate. If you’re thinking about trying mindfulness, this is the perfect introduction.

Source -Gates notes | Bill Gates |

Thank you very much to all readers!!😐

This article has been published by Sheikh Riad//https://m.me/Sheikhriad11//Facebook!!